আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যেমন চাপে পড়েছে, তেমনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র অবস্থানও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্প-পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এই দুই নেতাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান সংকট নিরসনের আলোচনায়ও তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
ভিন্ন অবস্থান ভ্যান্স ও রুবিওর
ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই নেতার অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে রুবিও ট্রাম্পের কঠোর (হকিশ) নীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে একমত থেকে যুদ্ধের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগে বাধ্য করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে চাপ প্রয়োগে দুজনই ভূমিকা রাখছেন।
২০২৮ নির্বাচন সামনে রেখে হিসাব-নিকাশ
২০২৮ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প আর প্রার্থী হতে পারবেন না। ফলে উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে তিনি ঘনিষ্ঠদের কাছে “ভ্যান্স না রুবিও?” এ প্রশ্ন তুলছেন বলে জানা গেছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলাফলই এই দুই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলে রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে ভ্যান্সের সতর্ক অবস্থান জনসমর্থন পেতে পারে জনপ্রিয়তায় চাপ ট্রাম্পের ওপর সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলের ভেতরে নজর কে পাচ্ছেন ট্রাম্পের সমর্থন
রিপাবলিকান নেতারা লক্ষ্য করছেন, ট্রাম্প কাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি রুবিওর দিকে ঝুঁকছেন। তবে হোয়াইট হাউস এ ধরনের জল্পনা নাকচ করেছে।একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প কোনো উত্তরসূরিকে এখনই চূড়ান্ত করতে চান না। বরং তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
অতীতের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি
ভ্যান্স একসময় ট্রাম্পের সমালোচক ছিলেন, তবে এখন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার বিরোধিতা করে আসছেন।অন্যদিকে রুবিও, যিনি ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, এখন প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধের ওপর
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের সফলতা বা দীর্ঘায়িত হওয়া দুই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রিপাবলিকান পার্টির নেতৃত্ব নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি