জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে একটি স্থায়ী ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। ইসরাইলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তার এই ঘোষণা লেবাননজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে সম্ভাব্য মানবিক সংকট নিয়ে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরাইল সীমান্ত থেকে লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বড় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এই নদী কোথাও সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার, আবার কোথাও প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত।
এদিকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জারি করা উচ্ছেদ আদেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শুধু লিতানি নদীর দক্ষিণাংশ নয়, বরং জাহারানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলীসহ এই আদেশের ফলে ইতোমধ্যে ১০ লক্ষাধিক লেবাননি নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি স্থল অভিযানের তীব্রতা বেড়েছে। উপকূলীয় শহর নাগৌরা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলো এবং পূর্বাঞ্চলের খিয়াম পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। খিয়ামে একটি আটক কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
ইসরাইলি স্থল আক্রমণের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ পাল্টা প্রতিরোধ জোরদার করেছে। তারা উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সীমান্তবর্তী বসতিতে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, লেবানন সীমান্তে সংঘাতের তীব্রতা যেমন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/আরকে