| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারতে লস্কর-ই-তৈয়বার ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, সাতজন বাংলাদেশি

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ৩১, ২০২৬ ইং | ০২:২৩:৫১:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৪০৫০ বার পঠিত
ভারতে লস্কর-ই-তৈয়বার ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, সাতজন বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ; গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি। দলের নেতা শাব্বির আহমেদ লোনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লোন আগে বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলেন।

বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে তাকে আটক করা হয় এবং তিনি ঢাকার কাছাকাছি একটি আস্তানায় লস্করের সেল পরিচালনা করছিলেন। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তাররা কলকাতা, দিল্লি, তামিলনাড়ু এবং বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা পড়েছে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন—বগুড়ার মিজানুর রহমান (৩২), জাহিদুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ লিটন (৪০), মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭), উমর ফারুক (৩২), ঝালকাঠির মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল ইসলাম (২৭)। অভিযানে ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাঁচটি পজ মেশিন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে।

কাশ্মীরের শ্রীনগরের বাসিন্দা শাব্বির আহমেদ লোনকে ২০০৭ সালে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একে-৪৭ রাইফেল ও গ্রেনেডসহ তাকে আটক করা হয়েছিল। তিনি জামিন পাওয়ার আগে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিহার কারাগারে ছিলেন। পরে বাংলাদেশে পালিয়ে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে এই সেল পরিচালনা করছিলেন।

পুলিশের দাবির ভিত্তিতে জানা গেছে, এই সেল ভারতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল, যা অবশেষে নস্যাৎ করা হয়েছে। অভিযানটি মূলত ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জনপথ মেট্রো স্টেশনে পাকিস্তানপন্থি পোস্টার দেখা যাওয়ার সূত্র ধরে শুরু হয়। পোস্টারগুলোতে কাশ্মীর নিয়ে উসকানিমূলক বার্তা ও পাকিস্তানপন্থি স্লোগান ছিল। পরবর্তী তদন্তে কলকাতা, তিরুপুরসহ একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার উমর ফারুকের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লোন তাকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তাকে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রেকি করার, ভিডিও করার এবং নেটওয়ার্কে আরও বাংলাদেশি যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। লোন পাকিস্তানের আইএসআই এবং লস্কর-ই-তৈয়বার সিনিয়র হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া তিনি তেহরিক-উল-মুজাহিদিন কমান্ডার আবু তালহা এবং ইউএপিএ আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত আসিফ দারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন।

লস্কর-ই-তৈয়বা যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ তালিকায় রয়েছে। এর বিরুদ্ধে ভারতের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোতে বিভিন্ন হামলার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাতেও এই গোষ্ঠীর যোগসাজশ থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।

সোমবার দিল্লির আদালত লোনকে পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ‘কট্টর ও উচ্চশিক্ষিত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী’, যিনি পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ভারতে স্লিপার সেল গঠন ও হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

এই গ্রেপ্তারি ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে শক্তিশালী করেছে এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে তৎপর চরমপন্থী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখাচ্ছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪