ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য ও সার সরবরাহ ব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির জোট গ্রুপ অফ ২০ (জি২০)। যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে অতিরিক্ত বৈঠকের আয়োজন করবে বলে নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে কৃষি সরবরাহ চেইন, বিশেষ করে সার (fertilizer) উৎপাদন ও বিতরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে G20-এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। দেশটির ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে সার ও খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা হয়নি; কিছু দেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় সার উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ইতিমধ্যে সতর্ক করেছে যে, চলমান সংকটে বিশ্বে আরও অন্তত ৪৫ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য অনিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
G20 আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সার ও খাদ্য সরবরাহ চেইন সচল রাখা,রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা,দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানো ও বৈচিত্র্যময় সার উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এখনো কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র “অ্যাকশন-অরিয়েন্টেড” (কার্যকর ও দ্রুত সিদ্ধান্তমূলক) কাঠামো তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য ও সার সংকট আরও গভীর হতে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি