রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: এইচএসসি ও ভর্তি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে দেশের শিক্ষার্থীদের এক বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ‘৪০ লাখ বছর’ সময় অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ এসএসসি ও সমমান এবং সমসংখ্যক এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। শুধু ভর্তি পরীক্ষার কারণেই জাতির কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ বছর সময় নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন কখন ভর্তি শুরু হবে এবং কখন শেষ হবে, এ বিষয়ে সমন্বয়ের দায়িত্ব কি সংশ্লিষ্টদের নয়?
তিনি আরও বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় মূল্যবান সময় হারাচ্ছে। এ পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত একটি সমন্বিত ভর্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মত দেন।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু কারিকুলাম বা সিলেবাস শেষ করলেই হবে না, শিক্ষা ব্যবস্থাকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় সে বিষয়েও ভাবতে হবে। দেশের উন্নয়নে সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মানোন্নয়নের কেন্দ্র হবে, নাকি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। “আমরা কি সত্যিকার অর্থে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি, নাকি শুধু ডিগ্রি দিচ্ছি” এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তিনি বলেন, শুধু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলেই হবে না, এগুলোকে গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘বেকারত্বের কারখানা’ বানানো যাবে না। এগুলোকে কর্মসংস্থানমুখী ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন এবং অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। এসময় ইউজিসির অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আইকিউএসি সেলের পরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম