রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে কোনোভাবেই অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এলাকাটিতে থাকা অবৈধ দখলদারদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রকৃত বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হবে না, বরং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে সরকারের একটি বৃহৎ মহাপরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয়, সারাদেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না, সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন।
স্থানীয়দের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায় বা চাঁদা দাবি করে, তাহলে সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আলী হোসেন ফকির, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন এবং আলীনগরে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৪ মে গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে ওই যৌথ ক্যাম্পে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ক্যাম্পের দেয়াল ভেঙে ফেলে এবং সড়কে গর্ত করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গুলিবিনিময়ের পর তারা পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম