বেলাবো (নরসিংদী) প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্যটি গত ২০ জানুয়ারি পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মহাসড়কের পাশেই পূর্বের তুলনায় আরও বড় পরিসরে ও নান্দনিকভাবে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’ উদ্বোধন করা হয়েছে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায়, ভাস্কর্যশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী ভাস্কর অলি মাহমুদের শিল্প নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভাস্কর অলি মাহমুদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল-ফারুক, সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) বায়েজিদ বিন মনসুর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থে ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করেছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করে আগের তুলনায় আরও বড় আকারে ৩১ ফুট উচ্চতা ও ২২ ফুট প্রস্থে নতুন ম্যুরালটি নির্মাণ করা হয়েছে। আগে এর আকার ছিল ১৬ ফুট বাই ১২ ফুট।
উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, “বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান আমাদের অহংকার। তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জীবন্ত করে রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ম্যুরালটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক।”
উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। সে সময় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায়। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় ‘বাংলার ঈগল’ স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। ত্রিমুখী কালো পাথরের এই স্মৃতিফলকের একটি স্তম্ভে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, অন্যটিতে তাঁর জীবনবৃত্তান্ত এবং তৃতীয়টি খোলা আকাশের প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে। মাঝখানের ত্রিভুজাকৃতির স্তম্ভে টেরাকোটার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। সর্বোচ্চ অংশে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রাম ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর’-এর প্রবেশ নির্দেশক।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন