| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দিল্লিতে জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১৫, ২০২৬ ইং | ২৩:৫০:১২:অপরাহ্ন  |  ১৯৪৭ বার পঠিত
দিল্লিতে জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?

স্টাফ রিপোর্টার: ভারতের রাজধানী দিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা নতুন করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ভারত থেকে ডা. জাহেদ উর রহমানের ফেরত আসা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুঃখজনকও বটে।

এ ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢ়েকে সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমানের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যু, ভিসা জটিলতা, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আস্থার সংকটের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগেই কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাটি শুধু বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ত্রুটি, নাকি এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাস ও যোগাযোগ ঘাটতি তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আসলে কী ঘটেছিল?

ঢাকা ও দিল্লির একাধিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সিনিয়র কর্মকর্তাদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সফর উপলক্ষে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়ে বিষয়টি অবহিত করে।

এমনকি বাংলাদেশের হাইকমিশনার সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করেছিলেন। রোববার রাতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জাহেদ উর রহমানকে আটকে দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ভারতের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভারত সফর বাতিল করেন। পরে তিনি কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।

কেন আটকে রাখা হয়েছিল?

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি ‘ওয়াচ লিস্টে’ থাকায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে থামান। পরে বিষয়টি ‘প্রশাসনিক ত্রুটি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এখানে প্রশ্ন উঠেছে, যদি সত্যিই তিনি ওয়াচ লিস্টে থেকে থাকেন, তাহলে আগাম কূটনৈতিক যোগাযোগের পরও কেন তালিকাটি হালনাগাদ করা হয়নি? আর যদি এটি কেবল প্রশাসনিক ভুল হয়ে থাকে, তাহলে একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ করা হবে কেন।

কূটনৈতিক প্রটোকল কি লঙ্ঘিত হয়েছে?

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিতে কোনো দেশের সরকারি প্রতিনিধি বা মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তির সফরের বিষয়ে আগাম অবহিত করা হলে তাকে বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হয়। জাহেদ উর রহমান সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো নোট ভারবালের কারণে তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও প্রটোকল পাওয়ার কথা ছিল। এটি প্রটোকল ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ব্যর্থতা এবং ভারতের প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবের বহিঃপ্রকাশ।

দুই দেশের সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাহেদ উর রহমানের এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কূটনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ করিম বাংলানিউজকে বলেন, যখন বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করছে, ঠিক এমন সময়েই দিল্লিতে এই ঘটনা ঘটেছে। এটা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তবে এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কেই প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণে আগামী দিনে যেন কোনোভাবেই এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।

ভারতীয় মিডিয়ার দাবি

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত ইমিগ্রেশন চেকের সময় জাহেদ উর রহমানের নাম একটি ‘সিকিউরিটি ওয়াচ লিস্টে’ ধরা পড়ে। এর পরই তাকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কিছু সময় আটকে রাখা হয়। জাহেদ উর রহমানে নাম আগে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেই তথ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেজে হালনাগাদ হয়নি। ফলে তার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা সতর্কতায় উঠে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই করে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

ভারতীয় মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপের পর জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের কারণে তিনি সফর বাতিল করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যা বলছেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের ফেরত আসা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। দুঃখজনকও বটে। তিনি বলেন, এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আজকে দিনশেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদের জানাব।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের বিষয়ে পুরো ঘটনা জেনে যদি কোনো অ্যাকশন নেয়ার থাকে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব। এ বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

ঢাকার ভারতীয় দূতকে তলব

ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢ়েকে তলব করেছে ঢাকা। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) ইশরাত জাহান ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

দিল্লির প্রতিক্রিয়া নেই

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি দিল্লি। এমনকি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বঢ়েকে তলব করার পরেও ভারত এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভারত খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪