স্টাফ রিপোর্টার: দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। ঢাকা মহানগর আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছে এবং বাদীপক্ষের ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
দুদকের আইনজীবী মীর আবদুস সালাম জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমেদকে দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে তার আইনজীবী সাক্ষীদের পুনরায় জেরা করার সুযোগ পাবেন। অন্যথায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন করে আদালত একতরফা রায় ঘোষণা করতে পারেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। সে হিসেবে ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া তার সর্বশেষ আয়কর নথিতে ৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার আয় এবং ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পারিবারিক ব্যয় দেখানো হয়েছে। ব্যয় বাদ দিলে তার বৈধ সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া মোট সম্পদের সঙ্গে এর পার্থক্য অনুযায়ী তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
দুদক আইনে সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে বেনজীর আহমেদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করে দুদক। পরে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
এদিকে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও পাঁচটি মামলার তদন্ত শেষ করেছে দুদক। বর্তমানে কমিশনে চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদ শূন্য থাকায় এসব মামলার চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীসান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়।