হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ঢাকায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ, সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক প্রকৃত শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাকে এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। এছাড়া মন্ত্রী, বিদেশি কূটনীতিক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ এবং তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশের বহু শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের প্রকৃত অংশগ্রহণকারীকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সমালোচকদের মতে, সীমিত কিছু সংগঠন ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে, যা গণঅভ্যুত্থানের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার পরিপন্থি।
জুলাই যোদ্ধাদের একাংশের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়, বরং এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত একটি গণআন্দোলন। তাই জাতীয় পর্যায়ের এমন আয়োজনে শহীদ পরিবার ও প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল।
সমালোচকদের ভাষ্য, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় আয়োজন সম্ভব হয়েছে, তাদেরই বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে আয়োজনের নৈতিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাদের মতে, আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল সাম্য, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, যা এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ও জুলাই যোদ্ধা মো. শফিকুল ইসলাম (দুখু) অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু গেজেটভুক্ত আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ঘটনায় বিভিন্ন মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় কর্মসূচিতে শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
এদিকে আয়োজক সংগঠন জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংগঠনটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম