| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মরক্কোর বদলে যাওয়া ফুটবলে ফ্রান্সকে চ্যালেঞ্জের বার্তা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১০, ২০২৬ ইং | ০০:৩৩:২৯:পূর্বাহ্ন  |  ২২৭৪ বার পঠিত
মরক্কোর বদলে যাওয়া ফুটবলে ফ্রান্সকে চ্যালেঞ্জের বার্তা

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মরক্কোর ফুটবল উন্নতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে মাঠের বাইরের একটি ঘটনায়। নেদারল্যান্ডসের মতো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তি মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ধরন বদলে রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে বাধ্য হয়েছে—এটাই ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের নতুন অবস্থানের বড় স্বীকৃতি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোম্যান নিজেদের চিরাচরিত ৪-৩-৩ আক্রমণাত্মক ছক থেকে সরে এসে অতিরিক্ত একজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলেন। লক্ষ্য ছিল মরক্কোর আক্রমণ ঠেকানো। কিন্তু ম্যাচে বল দখল ও নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল মরক্কোই।

ম্যাচে প্রায় ৩০ শতাংশের কম বল দখলে রেখেও নেদারল্যান্ডস লড়াই চালিয়ে যায়। তবে মরক্কো একাধিক সুযোগ তৈরি করে। আশরাফ হাকিমি দুইবার পোস্টে বল লাগান, আর ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ফারব্রুগেন কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বাঁচান। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ইয়াসিন বুনুর অসাধারণ নৈপুণ্যে জয় পায় মরক্কো।

নেদারল্যান্ডস কোচ কোম্যান ম্যাচ শেষে বলেন, যদি শেষ মুহূর্তে মরক্কো সমতা না ফেরাত, তাহলে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্তের জন্য প্রশংসা পেতাম। এখন সমালোচনার মুখে পড়ছি।

বিশ্লেষকদের মতে, নেদারল্যান্ডসের মতো ফুটবল ঐতিহ্যসম্পন্ন দলের বিপক্ষে মরক্কোর ৭০ শতাংশের বেশি বল নিয়ন্ত্রণ করা তাদের বিবর্তনের বড় উদাহরণ। কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো মূলত শক্তিশালী রক্ষণ ও পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করেছিল। তবে এবার তারা হয়ে উঠেছে আরও আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রণভিত্তিক দল।

মরক্কোর এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের পর ওয়ালিদ রেগরাগুইকে সরিয়ে ওয়াহবিকে দায়িত্ব দেওয়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে তিনি তরুণ প্রতিভা ও দলীয় কৌশলের সমন্বয়ে মরক্কোকে নতুন রূপ দিয়েছেন।

বর্তমান দলে আজেদ্দিন উনাহি, ব্রাহিম দিয়াজ, ইসমাইল সাইবারি ও তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদির মতো খেলোয়াড়রা আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সী বুয়াদি মাঝমাঠে সৃজনশীলতা ও চাপ সামলানোর দক্ষতা দেখিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

মরক্কোর খেলার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। তারা এখন দ্রুত আক্রমণে যায়, মাঝমাঠে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে। কোচ ওয়াহবি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষ ফ্রান্স হলেও নিজেদের খেলার ধরন বদলাবে না।

তিনি বলেন, আমাদের খেলার একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা আছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল হোক কিংবা অন্য কোনো ম্যাচ—আমাদের প্রস্তুতি ও কৌশল একই থাকবে।

তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে চোট সমস্যায় রয়েছে মরক্কো। দলে নেই নায়েফ আগের্দ ও আবদে এজালজৌলি। এছাড়া দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইসমাইল সাইবারিও হ্যামস্ট্রিং চোটে ভুগছেন।

তারপরও আত্মবিশ্বাসী মরক্কো। কোচ ওয়াহবির লক্ষ্য শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের সমান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবার আরও পরিণত দল হিসেবে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য—অতীতের মতো শুধু চমক নয়, বরং বিশ্বসেরার আসনে জায়গা করে নেওয়া।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪