| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ও ওপর মহলে মৌলবাদের আখড়া তৈরি হয়েছে : গোবিন্দ প্রামাণিক

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৭, ২০২৫ ইং | ১২:১৯:০৪:অপরাহ্ন  |  ১৬৯১৪০১ বার পঠিত
সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ও ওপর মহলে   মৌলবাদের আখড়া তৈরি হয়েছে :  গোবিন্দ প্রামাণিক
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

স্টাফ রিপোর্টার : হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, মসজিদ রয়েছে, মাদরাসা রয়েছে। বিএনপির অফিস রয়েছে। আরও শত শত স্থাপনা এই রেলওয়ের জায়গায় রয়েছে। সেসব অবৈধ স্থাপনা না সরিয়ে হিন্দু মন্দির ধ্বংস কেন? তার মানে এই সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ও ওপর মহলে মৌলবাদের আখড়া তৈরি হয়েছে। 

শুক্রবার (২৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রেলের জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ সরিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে একের পর এক হিন্দু নির্যাতন হয়েছে সরকারি মদতে। তবে সেখানে সরকারের সরাসরি অংশগ্রহণ দেখিনি। এবার দেখেছি পুলিশ নিজে মন্দিরের টিনের বেড়া খুলেছে। সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মন্দির ভেঙেছেন। তাদের দাবি এটা অবৈধ স্থাপনা।

 গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, আপনারা বলছেন এই জমি রেলওয়ের। রেলওয়ে এই জায়গা কোথায় পেয়েছে? আপনারা সিএস রেকর্ড নিয়ে আসেন। এই জমি হচ্ছে ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্র কুমার চৌধুরীর। রেলওয়ে কোনো রকম ক্ষতিপূরণ ছাড়া হিন্দুর সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে। হিন্দুদের সম্পত্তিতে হিন্দুরা মন্দির করবে এটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, মৌলবাদীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঢাকার খিলক্ষেত পুলিশ ও সেনাবাহিনী বুলডোজার দিয়ে শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির  ও প্রতিমা ধ্বংস, মন্দির পুজার আসবাবপত্র ও প্রতিমা অসম্মান করে ট্রাকে করে লুঠ করেছে। লালমনিরহাটে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অযুহাতে পরেশ চন্দ্র শীল ও বিষ্ণুপদ শীল এর উপর হামলা রক্তাক্ত জখম ও মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খিলক্ষেত এলাকার মৌলবাদীদের দাবীতে সরকার কর্তৃক ধ্বংস করা মন্দিরের পাশেই রেলওয়ের জমিতে পাশেই মসজিদ মাদ্রাসা ও একাধিক রাজনৈতিক দলের অফিস রয়েছে। সরকার সেসব ধ্বংস না করে শুধুমাত্র হিন্দু মন্দির ও প্রতিমা ধ্বংস করে চরম সাম্প্রদায়িকতার পরিচয় দিয়েছে। দেশে হিন্দু বিদ্বেষ চরম আকার ধারন করেছে। হিন্দুদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম স্বৈরাচার উচ্ছেদের পর দেশে কোন বৈষম্য থাকবে না। সকল ধর্মের মানুষ সমঅধিকার ও সম মর্যাদা পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উপদেষ্টা পরিষদে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নাই। ১০ টি সংস্কার কমিটির একটিতেও কোন হিন্দু সদস্য নাই। বিভিন্ন সেক্টরের নিয়োগে হিন্দু সম্প্রদায় উপেক্ষিত। শুধু তাই নয় যে সংবিধান সকল নাগরিকের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতামতও গ্রহণ করে নাই। পুরো প্রশাসন তালিবানী মতাদর্শে চলছে। 

তিনি  বলেন, রেল উপদেষ্টা এহেন চরম মিথ্যাচার করে শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই চরম মিথ্যাবাদীর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রেল উপদেষ্টার পদত্যাগ ও তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের, মব সৃষ্টিকারী অপরাধীদের গ্রেফতার ও মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবী করেছেন তিনি। 

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সারা দেশের বেদখলকৃত সকল মন্দির ও মন্দিরের জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হিন্দুদের কাছে ফেরৎ দিতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে ব্যপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে। একই সংগে তারা বলেন ৭ দিনের মধ্যে দেশের সকল মন্দিরের জায়গা যদি দখলমুক্ত না হয় তাহলে এই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সরকারের অধীনে হিন্দু সম্প্রদায় কোন ভোট কেন্দ্রে যাবে না, কোন ভোটে অংশগ্রহণ করবে না, সকল ধরনের ভোট বর্জন করবে। 

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায়, নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক প্রতীভা বাকচী ও যুগ্ম মহাসচিব হেমন্ত দাস প্রমুখ।

রিপোর্টার্স২৪/এসএমএন


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪