| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুর্ঘটনার শীর্ষে তিন চাকার যান

মহাসড়কে বাড়ছে মৃত্যু, ছয় মাসে ১৪শ দুর্ঘটনা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ০৫, ২০২৫ ইং | ০৬:১২:৩২:পূর্বাহ্ন  |  ১৭৬৬৯৫৩ বার পঠিত
মহাসড়কে বাড়ছে মৃত্যু, ছয় মাসে ১৪শ দুর্ঘটনা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :

দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই জাতীয় মহাসড়কে ১ হাজার ৩৯৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে শতাধিক মানুষের, আহত হয়েছেন আরও অনেক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেপরোয়া গতি, অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের দৌরাত্ম্য ও শৃঙ্খলার অভাবের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় মহাসড়কে ২০৯টি দুর্ঘটনার পর জুনে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬-এ। অর্থাৎ চার মাসের ব্যবধানে দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দুর্ঘটনার হার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রাণহানিও।


তিন চাকার যানই সবচেয়ে বিপজ্জনক

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘সেভ দ্য রোড’-এর তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে সড়কে ১৭ হাজার ৯৫৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৭৮ জন, আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ হাজার ৮২৬ জন।

এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অটোরিকশার মতো তিন চাকার যানে। এ ধরনের ৮ হাজার ৮১২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৯৫ জন এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৮১৫ জন। একই সময়ে ৩ হাজার ৪০৪টি বাস দুর্ঘটনায় ৮২৫ জন এবং ৩ হাজার ৭১৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৬৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।


বেপরোয়া গতি ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন দায়ী

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামছুল হক বলেন, ‘‘দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়ার চিত্র ভয়াবহ। অবৈধ যানবাহনের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলার অভাব মূলত এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী।’’

জাতীয় মহাসড়কে চলাচলকারী অনেক যানবাহনেরই উপযুক্ত ফিটনেস নেই। আবার চালকদেরও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। ফলে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। সড়কে প্রতিযোগিতামূলক গতির প্রবণতা দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আঞ্চলিক সড়কেও ঝুঁকি কম নয়

গত ছয় মাসে আঞ্চলিক সড়কে ১ হাজার ৪৮৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ২৬৮টি এবং মে মাসে সর্বনিম্ন ২১৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এই সড়কগুলোতে। সড়কের পাশে অবৈধ বাজার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বল নজরদারি, ও অনুমোদনহীন যানবাহনের চলাচল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘‘গ্রামীণ সড়ক ও জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে সংযোগকারী আঞ্চলিক সড়কগুলোতে তদারকি না থাকায় হঠাৎ ছোট যানবাহন ঢুকে বড় দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এখন মোটরসাইকেলও আতঙ্ক হয়ে উঠেছে।’’


মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে ৮০ শতাংশ

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০২০ সালে যেখানে মৃত্যু ছিল ১ হাজার ৪৬৩ জন, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৬০৯ জনে। এই পাঁচ বছরে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।

২০২০ সালে যেখানে দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ১৪ হাজার, ২০২৪ সালের শেষে তা দাঁড়ায় প্রায় ৪৬ লাখে।


নিয়ন্ত্রণহীন গতি: মৃত্যুর প্রতিযোগিতা

সড়কে যান চলাচলের জন্য নির্ধারিত গতি থাকলেও তা মানা হয় না। ফলে ঘনঘন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘‘জাতীয় মহাসড়কে শুধু গতির প্রতিযোগিতা চলছে। পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ নেই। প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার সড়কে কোনো নজরদারিই নেই।’’


প্রতিরোধে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (রোড সেফটি) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, ‘‘জাতীয় মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সংযোগ সড়কগুলোতে নজরদারি বাড়ালে দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব।’’


দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও কারণ বিশ্লেষণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মহাসড়ক হোক কিংবা আঞ্চলিক সড়ক, দেশের সড়কপথে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।



.

রিপোর্টার্স২৪/এস


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪