রিপোর্টার্স২৪ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শুল্কসংক্রান্ত তিন দিনব্যাপী আলোচনা কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সরকারের আরোপিত ৩৫ শতাংশ বর্ধিত শুল্ক বহাল থাকছে। এটি কার্যকর হবে আগামী ১লা আগস্ট থেকে।
এ বিষয়ে একাধিক দায়িত্বশীল সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আলোচনায় নানা বিষয় নিয়ে দরকষাকষি চললেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সরকারের ভেতর থেকেও এ বৈঠককে ‘সফল’ না ‘ব্যর্থ’—তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক কর্মকর্তা বলেন, “কূটনীতিতে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর তাৎক্ষণিক ফলাফল না এলেও দীর্ঘমেয়াদে তা কার্যকর হতে পারে।” তিনি আরও জানান, সুপার পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনায় তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য গুরুত্ব ধরে রাখা কঠিন হলেও বাংলাদেশ তা সফলভাবে পেরেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা কিছু দাবিকে বিশ্ব বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে গ্রহণ করেনি। এটি বৈঠকের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে উভয়পক্ষ কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে।
বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশকেও তা অনুসরণ করতে হবে—এমন একটি শর্তে সম্মত হয়নি ঢাকা। ফলে এই বিষয়সহ কিছু অমীমাংসিত ইস্যুতে আলোচনা পরবর্তীতে ভার্চুয়াল বা সরাসরি মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সেগুনবাগিচা।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার শেষ হওয়া এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডি এম সালাউদ্দিন মাহমুদ। ভার্চুয়ালি আরও যুক্ত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।