রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের প্রথম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে মাইলস্টোন কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের শোকাবহ ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই অভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধান অতিথি ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অসংখ্য প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। ২০২৪ পরবর্তী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি, দ্রুত বিকাশমান শিল্প ও সেবাখাত, তরুণ জনগোষ্ঠী, পরিশ্রমী এবং মেধাবী শ্রমের সহজলভ্যতা, দ্রুত প্রসারমান প্রযুক্তি সামর্থ্যসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো উল্লেখ করে তিনি অর্থনীতির চাকা সচল রাখার নিমিত্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি নাগরিক সমাজকে বাংলাদেশ প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের স্মরণের পাশাপাশি অভ্যুত্থানে আহতদের আশু সুস্থতা কামনা করেন এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অসংখ্য প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় তিনি শোক প্রকাশ করেন। তিনি তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় ত্যাগের পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ভাই-বোনদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক স্বাগত বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রবাসী ছাত্র-জনতার ভূমিকা গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়নে তিনি প্রবাসীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।এদিকে, ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসেও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘জুলাই বিয়ন্ড বর্ডারস’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাস অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় অধ্যায়ের দিনগুলোকে উপজীব্য করে আন্দোলন, গণহত্যার পোস্টার ও আলোকচিত্র এবং গণহত্যার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যারা বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য, বিভিন্ন পেশাজীবী ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ