| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৫ আগস্টেই বুঝেছিলাম, হাসিনার পতন হবে: চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ৩০, ২০২৫ ইং | ০৩:৫৪:১২:পূর্বাহ্ন  |  ১৬৬৫৫০২ বার পঠিত
৫ আগস্টেই বুঝেছিলাম, হাসিনার পতন হবে: চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি
ছবির ক্যাপশন: ৫ আগস্টেই বুঝেছিলাম, হাসিনার পতন হবে: চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক:

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ও ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এক লিখিত জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যেই আমি বুঝে যাই, শেখ হাসিনার সরকার আর টিকবে না।

২০২৫ সালের ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঁচ পৃষ্ঠার এই জবানবন্দিতে তিনি তুলে ধরেন। আন্দোলন দমন, সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা এবং তার নিজের অবস্থান।

চৌধুরী মামুন জানান, ৪ আগস্ট সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক হয়। এতে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যদিও সেখানে আন্দোলনের বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়, রাজনৈতিক পতনের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সাবেক আইজিপি দাবি করেন, সরকারের ভেতরের দুর্বলতা তুলে ধরার চেষ্টা করলেও নীতিনির্ধারকরা তা শুনতে প্রস্তুত ছিলেন না। সেদিন রাতেই আরও একটি জরুরি বৈঠক হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, মন্ত্রিসভার সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, র‍্যাব ডিজি এবং মামুন নিজে। সেখানে ৫ আগস্টের আন্দোলন মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করা হয়।

এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর অপারেশন কন্ট্রোল রুমে উচ্চপর্যায়ের আরেকটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার প্রবেশপথে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কঠোর অবস্থান নেবে।

চৌধুরী মামুন বলেন, ৫ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে লক্ষ লক্ষ মানুষ উত্তরা ও যাত্রাবাড়ি দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে থাকে। সেনাবাহিনী বাধা দেয়নি। বরং অনেক সেনা কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন।

তিনি জানান, দুপুর ১টার মধ্যেই ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বিশাল জনসমাগম হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশ আসে জনস্রোত ঠেকাতে, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল না। সেই সময়ই বুঝতে পারি, সরকার আর টিকবে না। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বিশেষ শাখা (এসবি) সূত্রে জানতে পারি, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে পারেন, বলেন মামুন।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট বিকেলে তিনি হেলিকপ্টারে তেজগাঁও হয়ে সেনাবাহিনীর অফিসার্স মেসে আশ্রয় নেন। জবানবন্দির শেষ অংশে তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে এবং কিছু অতিউৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বলপ্রয়োগ, গুলি, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে জনআন্দোলন দমন করা হয়েছে। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সাবেক পুলিশ প্রধান হিসেবে আমি লজ্জিত, অনুতপ্ত এবং জাতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।



রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪