রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : তিন যুগ পর আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস এখন সরগরম। ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীরাও প্যানেল গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদ নিয়ে দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আগাম প্রচারণায় সম্ভাব্য আটটি প্যানেল থেকে আটজন প্রার্থীর তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে।
চাকসু নির্বাচনে ভিপি পদ নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাষ মিলছে। ছাত্রদল, শিবির, ছাত্র মজলিস ও বাম জোটের পাশাপাশি বাগছাসের ভেতরে ভিন্নমত, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের সক্রিয়তা এবং নতুন ফ্রন্টের উত্থান–সব মিলিয়ে ভিপি পদকে কেন্দ্র করেই বাড়ছে উত্তেজনা।
ছাত্রদল: ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী হিসেবে ইংরেজি বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জালাল সিদ্দিকীর নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং আমাকে উপযুক্ত মনে করে, তাহলে চাকসু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে আমরা এখনও সাংগঠনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি।’
ইসলামী ছাত্রশিবির: ইতিহাস বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী একটি প্যানেল উপস্থাপন করে। এ নির্বাচনেও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাই। যদি সংগঠন মনে করে আমি ভিপি পদে যোগ্য, তাহলে অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য চূড়ান্ত।’
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস): ইতিহাস বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) চবি শাখার আহ্বায়ক মুনতাসির মাহমুদ। আগামী চাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী হিসেবে তার নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন নিয়ে আমাদেরও প্রস্তুতি চলছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে আসতে চাই; তবে কোন পদে থাকব তা নির্ভর করবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ওপর। এখনও আমাদের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হয়নি। আলোচনার পর একটি শক্তিশালী প্যানেল ঘোষণা করা হবে।’
স্বতন্ত্র প্যানেলের সম্ভাব্য ভিপি প্রার্থী: আরবি সাহিত্য বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও বাগছাসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজ রহমান স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজে যুক্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র প্যানেল গঠনের চিন্তা করছি। এই প্যানেল যদি আমাকে ভিপি পদে যোগ্য মনে করে, আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা।’
ইসলামী ছাত্র মজলিস: ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রার্থী হিসেবে আরবি সাহিত্য বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীও ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমির নাম আলোচিত হচ্ছে। ‘আমি নির্বাচনে অংশ নেব, এটা নিশ্চিত। তবে কোন পদে থাকব তা নির্ভর করবে সংগঠন ও সম্ভাব্য জোটের সিদ্ধান্তের ওপর। একক প্যানেল হতে পারে, আবার ফ্যাসিবাদবিরোধী কয়েকটি সংগঠন একত্র হয়ে জোটবদ্ধও হতে পারে। আমি যে পদ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ করতে পারব, সেই পদকেই অগ্রাধিকার দেব। বলেন তিনি।
সাধারণ শিক্ষার্থী মহাজোট : পদার্থবিদ্যা বিভাগের (১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও স্টুডেন্ট এলাইন্স ফর ডেমোক্রেসির (স্যাড) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র জগলুল আহমেদ সাধারণ শিক্ষার্থী মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন। নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছাত্র সংসদকে দলীয় লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে মুক্ত করা। ছাত্রদের নিজস্ব রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ছোট দল ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি মহাজোট করার পরিকল্পনা করছি। এই মহাজোটই ক্যাম্পাসে নতুন ধারা আনবে।’
হিউম্যানিটি রেভ্যুলেশন স্টুডেন্ট ফ্রন্ট : শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হিউম্যানিটি রেভ্যুলেশন স্টুডেন্ট ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং দলীয় আধিপত্যমুক্ত সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা একটি স্বতন্ত্র প্যানেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব সাধারণ শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য।’
গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট : বাংলা বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ শিক্ষার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া বাম জোট থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব, তবে কোন পদে কে থাকবেন তা সম্পূর্ণভাবে জোটের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। যদি জোট মনে করে আমি ভিপি পদে যোগ্য, তাহলে আমি সে পদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। ব্যক্তিগতভাবে নয়, জোটীয় সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য।’
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম