মাদারীপুর প্রতিনিধি : নব্বইয়ের দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বনশ্রী আর নেই। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৫৫ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন বনশ্রী। মৃত্যুর পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থতা আর অভাব-অনটনেই কেটেছে তার দিন। তিনি একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওকে রেখে গেছেন। বাদ আসর শিবচর পৌরসভা গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
চলচ্চিত্রে সাফল্যের ঝলক থাকলেও ব্যক্তিজীবনে বনশ্রীর গল্পটি ছিল বেদনাদায়ক। ঢাকাই সিনেমার রঙিন জীবন শেষে নেমে আসে অন্ধকার। নানা চড়াই-উৎরাই শেষে জীবনের শেষ অধ্যায়ে ঠাঁই হয় শিবচরের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ছোট্ট ঘরে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ২০ লাখ টাকার অনুদানের মুনাফায় চলত সংসার।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের শিকদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বনশ্রী। বাবা মজিবুর রহমান মজনু শিকদার ও মা সবুরজান রিনার তিন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবার নিয়ে ঢাকায় যান বনশ্রী। সেখানেই গড়ে ওঠে তার অভিনয় জীবন।
১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব-রুস্তুম’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনীত এ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়। এরপর মান্না, আমিন খান ও রুবেলের বিপরীতে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন বনশ্রী। এক দশকের মধ্যে তিনি ৮–১০টি সিনেমায় নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেন।
তবে আলো-ঝলমলে চলচ্চিত্রজীবনের অবসান ঘটতেই জীবনে নেমে আসে সংগ্রাম। কখনো বস্তিতে, কখনো আশ্রয়ণ প্রকল্পে কাটাতে হয়েছে দিন। একসময় জীবিকা নির্বাহ করতে শাহবাগে ফুল বিক্রি, এমনকি বাসে হকারিও করতে হয়েছে তাকে।
মাদারীপুর নাট্যগোষ্ঠীর নির্বাহী সদস্য মাসুদ সুমন বলেন,বনশ্রীর মতো একজন জনপ্রিয় শিল্পীকে অবহেলায় হারানো কেবল একজনের নয়, পুরো সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্যই এক করুণ অধ্যায়। তার মৃত্যু আমাদের সামনে প্রশ্ন রেখে গেল সংস্কৃতির যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব কী?
রিপোর্টার্স২৪/সাইফ