স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন রেজিয়া বেগম (৫০)। জ্বর, দুর্বলতা ও বমিতে ভুগছিলেন তিনি। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার আজিজুল ইসলামের স্ত্রী রেজিয়াকে বৃহস্পতিবার ( ১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চিকিৎসক পরীক্ষা–নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। এ জন্য সঙ্গে আনা ৫ হাজার টাকা ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু হাসপাতালের লিফটে ওঠার পরই তিনি টাকাগুলো খোয়া যাওয়ার কথা বুঝতে পারেন।
হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়েন রেজিয়া বেগম। তিনি বলেন, “আমি দুইবার স্ট্রোক করেছি। এই টাকাই ছিল ভরসা। সব চুরি হয়ে গেছে।” পাশে থাকা মেয়ে আদুরী আক্তার বলেন, “এখন মায়ের পরীক্ষা করব কীভাবে? আমাদের কাছে আর কোনো টাকা নেই।”
হাসপাতালের ভেতরে তাদের আর্তনাদে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। আশপাশের রোগী ও স্বজনেরা অভিযোগ করেন, হাসপাতাল প্রায়ই চোর–ছিনতাইকারীদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে। অথচ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে চোর–ছিনতাইকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
শহিদুল নামের এক রোগীর স্বজন জানান, কয়েক দিন আগে তাঁর মানিব্যাগ পকেট থেকে চুরি গেছে। আলী আকবর নামে আরেকজন স্বজন বলেন, তাঁর এক আত্মীয়ের কাছ থেকে হাসপাতালেই ৩০ হাজার টাকা খোয়া যায়। টাকা হারিয়ে তিনি চিকিৎসা না করেই কান্নায় ভেঙে বাড়ি ফিরে যান।
হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মী রোকেয়া বেগম বলেন, “রোগীরা এখানে কষ্ট নিয়ে আসে। তাদের টাকা চুরি হয়ে যাওয়া অমানবিক।”
হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে পুলিশ ও আনসার মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
রিপোর্টার্স ২৪/ প্রীতিলতা