নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হরণি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাটে দুই লাখ ১৩ হাজার টাকায় ৮০ পিস ইলিশ বাজার ডাকে নিলামে বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি মাছের ওজন এক কেজির বেশি ছিল বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
জেলেরা বলছেন, ‘এই মাছগুলো সাঙ্গু গ্যাস ফিল্ডের কাছাকাছি জায়গায় পাওয়া গেছে। হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে যেখানে যেতে সময় লাগে দুইদিন। ’
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চেয়ারম্যান ঘাটের মেসার্স আল্লাহর দান মৎস্য আড়তে এ নিলাম ডাক অনুষ্ঠিত হয়। গত বুধবার থেকে প্রায় পাঁচ দিন সাগরে মাছ ধরার পর আজ মঙ্গলবার সকালে জেলেরা এসব ইলিশ নিয়ে আসেন। বোটের মালিক রাকিব ও জেলে মো. শাহেদ মাঝি ১৭ জন জেলে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তাদের ধরা ৮০টি ইলিশ আলাদাভাবে নিলামে তোলা হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী নাহিদ ব্যাপারী মোট ২ লাখ ১৩ হাজার টাকায় মাছগুলো ক্রয় করেন। এই মাছগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রক্রিয়া করে বিক্রির জন্য পাঠাবেন।
মেসার্স আল্লাহর দান মৎস্য আড়তের ম্যানেজার মো. ইরাক উদ্দিন বলেন, ‘দাদন নেয়ার কারণে বোটের মালিক রাকিব আমাদের আড়তে মাছগুলো উঠিয়েছেন। বড় আকারের এসব ইলিশের অনেকগুলোর ওজন দুই কেজিরও বেশি। এবছর এই ঘাটে এগুলো চেয়ে বড় সাইজের ইলিশ আসে নি। তাই ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেশি দামে কিনে নিয়েছেন।’
আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. আকবর হোসেন বলেন,‘ বছর দুয়েক আগেও প্রায়ই এ ধরনের বড় ইলিশ ঘাটে পাওয়া যেত, এখন আর আগের মতো আসে না। সামনে মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান রয়েছে। মৌসুম থাকা সত্ত্বেও মাছের অভাব দেখা দিয়েছে। তবে মাছের আকার ভালো হলে দাম বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক। এতে জেলে, ব্যবসায়ী ও ভোটের মালিক সবাই উপকৃত হয়।’
হাতিয়া উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ হাসান বলেন, ‘চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় প্রায়ই বড় আকারের মাছ ধরা পড়ে। ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ অভিযানের সময়ে জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় নদী ও সাগরে বড় মাছের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা আদেশ মেনে চললে আরো বড় ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
রিপোটার্স ২৪/ প্রীতিলতা