কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : জায়গায় জায়গায় ছোট-বড় খানা-খন্দ। উঠে গেছে কার্পেটিং। কোথাও কোথাও উঁচু-নিচু। একটু বৃষ্টি হলেই জমে পানি। এমনই বেহাল দশা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জাতীয় মহাসড়কের। এতে সড়কে কমছে যানবাহনের গতি। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। মানুষজন সময় মত পৌছাতে পারছেনা কর্মক্ষেত্রে।
লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তাই এখন ইটের রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সড়কটির কুষ্টিয়া অংশের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ১০ কিলোমিটারই বর্তমানে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। কিছু কিছু জায়গা চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ভাদালিয়া থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কে মাঝে মাঝেই খান্দাখন্দ ও উচুঁ উচুঁ ঢিবি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক। এই অংশটুকু ধীরে ধীরে চলাচলের অনুুপযোগি হয়ে যাচ্ছে।
এই মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী গড়াই পরিবহন বাসের চালক বাবুল বলেন, ‘গত একবছরে রাস্তা সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে। আগের এক ঘণ্টার পথ এখন দুই ঘণ্টা লাগছে। ভাঙাচোরায় পড়ার কারণে হরহামেশা গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে দূর্ঘটনা।
ঝিনাইদহে চাকরি সূত্রে মহাসড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন শাহিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই এটা কার্পেটিং সড়ক হিসেবে দেখছি। এখন কী এমন অভাবে পড়লাম যে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি ইট পাড়া রাস্তায় পরিনত হয়েছে। অতি দ্রুত এটি আগের আদলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জানান, ‘দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি এভাবে চলতে পারে না।
জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, ‘এই সড়ক সংস্কারে কোনো বাজেট নেই। বিভিন্ন রাস্তা রিপেয়ার করার জন্য আমাদের যে ইট থাকে, তাই দিয়ে কার্পেটিং উঠে যাওয়া জায়গাই নতুন করে ইট পাড়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘৭-৮ বছর আগে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। এখন নতুন প্রকল্পের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। স্বল্প সময়ে এ বেহাল দশা থেকে মুক্তির কোন আশা নেই।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন