| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এখন দাবি-দাওয়া তুলে নির্বাচন পণ্ড করার চেষ্টা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৫, ২০২৫ ইং | ০৮:১২:৩১:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৩৮৮২৪ বার পঠিত
এখন দাবি-দাওয়া তুলে নির্বাচন পণ্ড করার চেষ্টা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
ছবির ক্যাপশন: এখন দাবি-দাওয়া তুলে নির্বাচন পণ্ড করার চেষ্টা হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভাজন সৃষ্টিকারী দাবি-দাওয়া বন্ধ করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ করে 'পিআর ভোট' নিয়ে যারা গণভোট বা নির্বাচনের দাবি তুলছেন, তাদের প্রতি তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশটাকে বাঁচান। এখন আর বিভাজন সৃষ্টি করবেন না।’

 আজ বুধবার(১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সুধী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও নারী সমাবেশে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব তার বক্তব্যে পিআর পদ্ধতি নিয়ে যারা জোরেশোরে দাবি তুলছেন, তাদের সমালোচনা করেন। উপস্থিত সাধারণ জনগণের উদ্দেশে তিনি জানতে চান, ‘এই পিআর বুঝেন? আমাদের এখানে শিক্ষিত মা-বোনেরা আছেন, আপনারা কি পিয়ার ভোট বুঝেন?’

উপস্থিত জনতা 'না' সূচক মন্তব্য করলে মির্জা ফখরুল আবারও একই প্রশ্ন করেন। আবারো 'না' সূচক মন্তব্য আসার পর তিনি বলেন, ‘তাহলে কেমনে হবে? যেটা বুঝিনা ভোটটা কাক দিমু? ওইটা পিআরওক দিমু না আলমগীর সাহেব দিমু নাকি দেলোয়ার সাহেবক দিমু, অমুক সাহেবক দিমু হবে?’

তিনি নিজেই পিআর পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝান। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পিআর হচ্ছে—আমি একটু বুঝিয়ে বলি, পিআর হচ্ছে মানুষ এই প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার দরকার নাই, দলটাকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু আমি জানতে পারছি না কোনটা আমার প্রার্থী। আমার ক্যান্ডিডেট কোনটা, আমার কাজ করবে কে, আমার এমপি কে? আমার এমপি যদি না থাকে, আমি যাব কার কাছে? এই জিনিসগুলো মাথার মধ্যে নিতে হবে তো পিআর। পিআরের কথা আমরা আলোচনা করি, তর্ক-বিতর্ক এসব পার্লামেন্টে গিয়ে করি। আমরা বলেছি যে আসুন নেক্সট পার্লামেন্টে এটাকে আমরা তর্ক বিতর্ক করি। পিআর দেশের লোক চায়, আমরা সেটা করব।’

কিন্তু যারা এই দাবি তুলছেন, তারা এসব না শুনে প্রতিনিয়ত মিছিল করে পিআর চাইছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "দয়া করে নির্বাচনটা তাড়াতাড়ি হতে দেন। এই মানুষগুলো বাঁচুক। যে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে মানুষ আছে, অস্থিরতা কাটুক।"

কিছু প্রতিষ্ঠানও এসময় দাবি-দাওয়া তুলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "উদ্দেশ্যটা ভালো না, নির্বাচনটাকে পণ্ড করতে চায়। ভাই আমরা তো ভোট দিতে চাই।" এসময় তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে আবারো জিজ্ঞেস করেন, "চান না ভোট দিতে?" জনগণ 'হ্যাঁ' সূচক সমর্থন জানালে তিনি হাত তুলে জোরে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান। জনগণের সমর্থন পাওয়ার পর তিনি বলেন, "ভোট চান! এখন সবাই ভোট চায়, নির্বাচন চায়। দয়া করে এসব বাদ দিয়ে নির্বাচনটা শেষ করেন, জনগণের একটা প্রতিনিধি আসুক। এই বিষয়গুলো তারপরে তর্ক বিতর্ক করা যাবে। আরো কথা বলা যাবে। তখন সেগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।"

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত জনগণের কাছে জানতে চান, "চাউলের দাম কমেছে না বাড়িছে?" তখন উপস্থিত সবাই বলেন, "বেড়েছে চাউলের দাম।" জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, "হ্যাঁ, চালের দাম বেড়েছে। সরকার যদি জনগণের থাকতো, তাহলে এই বাড়াটা বন্ধ করতো। ওএম এস চালু করে দিত।"

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তিনি তাদের পূজার খোঁজ নেন। ‘এবার হিন্দু ভাইদের জিজ্ঞাসা করি। এবার পূজা কেমন করছেন?" জানতে চাইলে তারা পূজা ভালো করার কথা জানান। তখন বিএনপি মহাসচিব বলেন, "ভালো করেছেন, আমাকে কিন্তু দাওয়াত করেন নাই।’ এসময় উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন।

নিজের এলাকার জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি ঠাকুরগাঁও আসলে লোক ঝাঁপাই পড়ে মোর উপর যে, এটা করে দিবা বা হবে, ওইটা করে দিবা হবে। মুই তো সরকারত নাই, কহিন কেমনে কাম করিম। মুইতো এমপি এলাও হওনি। কাজটা করিম কেমন করে। তাহলে ওই এমপিটা করতে হবে, সরকারটা করতে হবে। ওই সরকারটা যদি বিএনপি সরকার হয়, তাকে আপনারা চিনেন, জানেন। সুতরাং অবশ্যই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘মা বোনেরা, ভাইয়েরা আমার, সব হিন্দু -মুসলমান. বৌদ্ধ -খ্রিস্টান ভাইয়েরা, আমাদের একটাই লক্ষ্য যে আসুন,আমরা  সুন্দর ভালোবাসা প্রেমময় বাংলাদেশ গড়ে তুলি। হিংসা রাজনীতি আমরা করতে চাই না। ওইটা কিন্তু বাতিল করে দিয়েছে। যে আর কোনো রকম হিংসা যেন না হয়। একটা লোকে যেন না খেয়ে মরে, আমার একটা ছেলেও যেন না খেয়ে মরে। এটাই আমাদের কামনা এখানে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গম আলী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, গড়েয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক, রোকনউদ্দিন ভূঁইয়া, ফোরাতুন নাহার প্যারিস, গড়েয়া ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ পুষ্পশিলা-সহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪