রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু গত সোমবার নেসেটের শীতকালীন অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার সময় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে বোমা হামলার বিষয়টি স্বীকার করেন।
গর্বিত কণ্ঠে নেতানিয়াহু বলেন, 'যুদ্ধবিরতির মধ্যে দুই ইসরায়েলি সেনা মারা পড়ে, জবাবে আমরা ১৫৩ টন বোমা ফেলেছি এবং গাজা উপত্যকার বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছি।
গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চালুর পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ৮০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। এসব ঘটনায় ৯৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুধু রোববারেই (যেদিন ১৫৩ টন বোমা হামলা হয়) নিহত হন ৪৪ জন। এ ছাড়া, আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় বিরোধীদলের আইনপ্রণেতারা বারবার তাকে বাধা দেন। তারা নেতানিয়াহু সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান ও জেনেবুঝে গাজার যুদ্ধ দীর্ঘায়ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন।
তার এই বক্তব্য গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন স্বীকার করে নেওয়ার সামিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তেল আবিবের অভিযোগ, হামাস রাফায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় দুই সেনা নিহতেরও কথা জানায় ইসরায়েল। তবে হামাস ওই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায় অস্বীকার করে বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস হামলা চালায়। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে দুই বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে অন্তত ৬৮ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত ও এক লাখ ৭০ হাজার ২০০ জন আহত হয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি