রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : টানা ৮৪ দিন পানির নিচে থাকার পর অবশেষে ভেসে উঠেছে রাঙামাটির পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ ও ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সেতুর মূল পাটাতন দৃশ্যমান হতে শুরু করে। তবে ঝুঁকি এড়াতে এখনই পর্যটকদের পারাপারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত ৩০ জুলাই সেতুটির পাটাতন সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সেতুটি বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় আজ সকালের দিকে ঝুলন্ত সেতুটির মূল পাটাতন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। তবে দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় সেতুর বেশ কিছু কাঠের পাটাতন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু কিছু স্থানে রঙের কাজসহ আনুষঙ্গিক মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘সেতুটি পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত করতে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। সম্পূর্ণ মেরামত করতে দু-এক দিন সময় লাগতে পারে। সংস্কার কাজ শেষ হলে পর্যটকদের চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর এটি পুনরায় সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।’
এদিকে, সেতুটি ভেসে ওঠায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে। জেলার প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের আগমন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়। প্রায় তিন মাস পর সেতুটি পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় ব্যবসায় নতুন চাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
প্রসঙ্গত, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে রাঙামাটি এই আইকনিক ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। মূলত কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট হলেও নির্মাণের সময় সেতুটি ১০৭ ফুট (মিন সি লেভেল) উচ্চতায় তৈরি করা হয়। ফলে হ্রদের পানি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর আগেই সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ার কারণে এখন প্রায় প্রতি বছরই সেতুটি পানির নিচে চলে যায়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন