রিপোর্টার্স ২৪ ডেক্স : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জে অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ধান-আলু সহ সবজির খেত। এতে কৃষকরা চরম ক্ষতির সন্মুখিন হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক জমিতে বৃষ্টির পানি জমে কৃষকের স্বপ্ন এখন হাবুডুবু খাচ্ছে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর আগাম আলু চাষে নেমেছিলেন নওগাঁর কৃষকরা। নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে গেছে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠের জমিতে। নওগাঁয় এ বছর ১ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান,২১ হাজার হেক্টর জমিতে আলু , ১ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন উপজেলায় দেখা গেছে,কৃষকরা কোথাও আলু আবাদের জন্য জমি তৈরি করা হয়েছে, কোথাও বীজ রোপণ করেছেন। বৃষ্টিতে এসব জমিতে পানি জমে গেছে। শুধু আলু নয়, আগাম জাতের নানা সবজির গাছও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। মাঠের আধা-পাকা ধানও বৃষ্টির পানিতে নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা জমির ফসল বাঁচাতে পানি নামানোর চেষ্টা করছেন । টিকে থাকা সবজি খেত রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন নওগাঁর কৃষকেরা। এ জেলার কৃষকরা বলছেন, গত বছরের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে চলতি মৌসুমে লাভের আশায় আগাম আলু রোপণ করেন। টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে রোপন করা আলু বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চাষ দেয়া জমি থেকে পানি নামতে দেরি হলে নতুন করে বীজ রোপণ করা সম্ভব হবে না। নতুন শাক-সবজির ক্ষেতেও শিকড় পচে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দ্রুত পানি না সরলে অনেক ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকরা। এমন অবস্থায় জেলার কৃষকরা গত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে দেনাদার হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল জানান, অল্প সময়ে রোপন করা আলু জমি তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। যেহেতু ভারী বৃষ্টি হয়নি তাই সবজি ও ধানেরও বড় ক্ষতি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই।
এদিকে শস্যভান্ডার সিরাজগঞ্জ সহ চলনবিলের তাড়াশ উপজেরায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭শ’হেক্টর জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ঝড়ে ধান ক্ষেত নুয়ে পড়েছে। তাড়াশ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের রোপা আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। নিচু এলাকার কৃষকদের জমিতে পানি বেধে যাওয়ায় তারা চরম সমস্যায় পড়েছেন। অসময়ের এই বৃষ্টিতে জেলার শতিকালিন শাক সবজির খেতও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্ম কর্তা সমিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন,ধানের জমিতে আটকে থাকা পানি নিষ্কাসনের জন্য কৃষকদের পরার্মশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে তাদের মাঠে কৃষকদের পাশ থাকার কথা বলা হয়েছে। তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের অফিস জানায়,শুক্রবার বেলা ১২ টা থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ১৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড় করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স ২৪/জয়