রিপোর্টারস২৪ ডেস্ক: আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসির আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।
তিনি বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন,, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইসি সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আনা ভোটের কালি এসে পৌঁছেছে যা নির্বাচনী প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রয়োজনীয় প্রায় সব মৌলিক কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকেই ভোটের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পরিবেশ আরও শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে।
তিনি আরও বলেন, ভালো নির্বাচন করা ছাড়া বিকল্প নেই। জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের অবশ্যই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এবারের ভোটকে জনগণের জন্য উৎসবে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।
ইসি সচিবালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ মৌলিক প্রস্তুতি নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩০ জন।
আগামী ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, এর আগে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জানানো যাবে।
সম্প্রতি সরকার ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এতে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু যুগান্তকারী বিধান যেমন ফেরারি আসামির প্রার্থী হতে না পারা, একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ পুনরায় চালু, সমান ভোটে পুনঃভোট, জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক করা ইত্যাদি।
এছাড়া অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে। আইটি সাপোর্টে পোস্টাল ভোটিং, এআই-সংক্রান্ত অনিয়মকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে ইসির পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইসি এবার নতুন তিনটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (শাপলা কলি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) [প্রতীক: কাঁচি], ও বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি (হ্যান্ডশেক)।
দেশব্যাপী ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটিংয়ের সুযোগ থাকছে। এ লক্ষ্যে ১৬ নভেম্বর ‘পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ’ উদ্বোধন করা হবে।
আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপ শুরু হতে পারে। ইসি আশা করছে, সব দলের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র :বাসস
রিপোর্টারস২৪/ ডেস্ক