জেলা প্রতিনিধি (কিশোরগঞ্জ): ভোরের সূর্য ওঠার আগেই ফুটে আছে সারি সারি সাদা শাপলা। ঝিরিঝিরি বাতাসে দুলছে ফুলগুলো। পানকৌড়ি আর সাদা বকের আনাগোনা, পাখির কিচিরমিচির শব্দ, স্বচ্ছ টলমল পানিতে ভাসছে অসংখ্য সাদা শাপলা। এ যেন প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা। শান্ত নীরব প্রকৃতির মধ্যে শাপলার মায়াবী সৌন্দর্য আকর্ষণ ছড়াচ্ছে। প্রকৃতির এমনই সৌন্দর্য কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক নীল কুঠির বিলে।
ব্রিটিশ নীল চাষের সবচেয়ে বৃহৎ চুল্লি ছিল একসময় এই বিলের পাশেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে ফুটেছে ফুল। সকালে জলাশয়ের দিকে চোখ পড়তেই শাপলার বাহারি রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। নদীর ধারে ফুটে থাকা সারি সারি শাপলা ফুল দেখতে যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি ধরণীর বুকে লাল-সবুজের সমারোহে যেন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলীর একটি। শাপলা শুধু শাপলা ফুলই নয়, এটি জাতীয় ফুল। শাপলার সৌন্দর্যে মেতেছেন অনেকেই।
এক দশক আগেও উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর শাপলা ফুল দেখা মিলত। তখন পুকুর, খাল, বিল ও জলাশয়গুলোতে লাল, গোলাপি, সাদা, বেগুনি, নীল ও বিরল প্রজাতির হলুদ শাপলা ফোঁটার কারণে চারদিকে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে প্রাকৃতিক দৃশ্যের সৃষ্টি হতো।
সাধারণত শাপলা ফুল দিনের বেলা ফোঁটে এবং সরাসরি কাণ্ড ও মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। শাপলার পাতা আর ফুলের কাণ্ড বা ডাঁটি বা পুষ্পদণ্ড পানির নিচে মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির উপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতার জন্ম হয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। ভাসমান পাতাগুলোর চারদিকে ধারালো প্রান্ত থাকে।
নাব্যতা হ্রাস, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করে কৃষিসহ নানা রঙের শাপলার বাহারি রূপের জমি তৈরি, ঘরবাড়ি তৈরি, ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যেতে বসেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন