রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২৫ উপলক্ষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে তারা ঢাকার সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
রাষ্ট্রপতির পর প্রধান উপদেষ্টা শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দেন। ভোরে দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি ও শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচি: দিবসটি উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
ঢাকা সেনানিবাসস্থ ‘আমি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স’-এ প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত ১০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা দেবেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, তিন বাহিনীর প্রধান, পিএসওসহ বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বিকেল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনাসদস্যদের স্বজনসহ বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে থাকবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে।
ঢাকার বাইরে বিশেষ আয়োজন: সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাঁটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাসেও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজ দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে।
২০ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’ এবং আজ বাংলাদেশ বেতারে ‘বিশেষ দুর্বার’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো পর্যায়ক্রমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে