জেলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : রামরঙ্গন চায়না জাতের কমলা চাষে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নীলফামারীর ‘আদর্শ মানিক নার্সারী’র উদ্যোক্তা ও নীলফামারী গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত আব্দুল মতিন। তিনি নার্সারি ব্যবসার পাশাপাশি রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষে নিজ জেলা ও পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে সুনাম অর্জন করেছেন। তার এই বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ছুটে আসছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এই জাতের কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অন্যরা।
ভারত ও চীনে ব্যাপকভাবে রামরঙ্গন জাতের কমলা চাষ হয়। আমদানিকৃত রামরঙ্গন কমলার চেয়ে দেশে উৎপাদিত ফল বেশি মিষ্টি ও সুস্বাদু। সামান্য পরিচর্যা করলেই চাষে সাফল্য আসে। রামরঙ্গন কমলা চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে এক মৌসুমে দেড় মন থেকে দুই মন পর্যন্ত রামরঙ্গন কমলা পাওয়া সম্ভব। রামরঙ্গন কমলা গাছ পাঁচ-ছয় ফুট লম্বা হয়। এটি কমলার একটি ভ্যারাইটি জাত। এই জাতের কমলার বিশেষ সুবিধা হচ্ছে—পূর্ণ পরিপক্ব হওয়ার পরও এটি গাছ থেকে ঝরে পড়ে না; বরং পরিপক্ব হওয়ার পরও অন্তত এক মাস গাছে রাখা যায়।
এছাড়াও আব্দুল মতিন সদরের কচুকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ৫০ বিঘার ওপর ৮০০-র বেশি চারা নিয়ে তৈরি করেছেন ‘আদর্শ মানিক নার্সারি’। এতে প্রায় শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে এই নার্সারিতে। অনলাইনের মাধ্যমে দেশের সব জেলায় যত্নসহকারে পছন্দের চারা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে আব্দুল মতিন জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের সার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়ে থাকেন। এছাড়া তিনি বলেন, আগের তুলনায় এখন চাহিদা বেড়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. আতিক আহমেদ বলেন, এ অঞ্চলের মাটিতে এসিডের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিদেশি জাতের ফল এখানে চাষাবাদে ফলপ্রসূ হয়। যেহেতু বাজারে এ কমলার চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে, সেহেতু কৃষি বিভাগ থেকেও সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের আবহাওয়া রামরঙ্গনসহ বিভিন্ন ফল চাষে উপযোগী।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন