রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো এলাকায় পরপর কয়েকটি আবাসিক টাওয়ারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। ভয়াবহ এই আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, চিকিৎসাধীন আরও ৪৫ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন, আর ২৭৯ জনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। যা নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা। এখনও আগুন লাগার সঠিক কারণ উদ্ঘাটিত হয়নি।
এদিকে ঘটনার মাত্রই ভিন্ন মোড় হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের দুজন স্থানীয় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং একজন প্রকৌশল পরামর্শক। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই ঘটনা দুর্ঘটনার ছদ্মবেশে ‘অবহেলাজনিত হত্যার’ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য। পুলিশ জানায়, ভবনগুলোর সংস্কার কাজ চলছিল এবং জানালায় লাগানো ছিল পলিস্টাইরিন বোর্ড, যা আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়তে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভবনের বাইরে পাওয়া যায় বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং, জাল ও সুরক্ষা সামগ্রী, যেগুলো আগুন প্রতিরোধী ছিল না। জানালায় পাওয়া স্টাইরোফোমও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরের সকালেও কয়েকটি টাওয়ার ব্লকের অংশবিশেষ থেকে দমদমানো ধোঁয়া বের হতে থাকে। আটটি ভবনের মধ্যে চারটির আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো দিন লেগে যাবে। ইতোমধ্যে শত শত মানুষকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে এবং যাদের থাকার জায়গা নেই, তাদের জন্য জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
হংকং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট আগুনটিকে লেভেল-ফাইভ অ্যালার্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে। যা সর্বোচ্চ সতর্কতা। হংকংয়ে এই স্তরের অগ্নিকাণ্ড সর্বশেষ ঘটেছিল ১৭ বছর আগে।
স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র বলেন,নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তাদের চরম অবহেলার কারণেই আগুন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এত প্রাণহানি ঘটে। সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম