আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ এর জন্য মৃত্যুদণ্ডের পর ঢাকা থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। ভারত এই অনুরোধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভারতের পক্ষ জানিয়েছে, অনুরোধটি বর্তমানে ‘পরীক্ষা করা হচ্ছে’ এবং তারা বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, অনুরোধটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, ভারত বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ঢাকা ভারতের কাছ থেকে দ্রুত উত্তরের প্রত্যাশা করছে, কারণ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অনুরোধটি ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত ইন্দো-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
এই মাসের শুরুতে, ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন-পীড়নের জন্য হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। হাসিনা এই রায়কে ‘কারসাজিমূলক’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
ইন্দো-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী উভয় দেশ প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে যদি অভিযোগটি ন্যায়ের স্বার্থে সরল বিশ্বাসে করা হয়নি বলে নির্ধারিত হয়।ডেইলি স্টারের রিপোর্ট অনুসারে, ট্রাইব্যুনাল তাকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, উস্কানি এবং দমন-পীড়নের সময় নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতা সহ অন্যান্য অভিযোগে সাজা দিয়েছে।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচারকে ‘অন্যায্য’ হিসেবে সমালোচনা করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম