ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা এখন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কবলে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছে আরও শত শত মানুষ। তিন দেশেই উদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলেছে যুদ্ধকালীন তালে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তন ও মৌসুমি বর্ষণের সঙ্গে যুক্ত ট্রপিক্যাল ঝড়ের কারণে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ বর্তমানে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
শ্রীলঙ্কা:
সাইক্লোন ‘দিতওয়া’এর আঘাতে রবিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৪-এ দাঁড়িয়েছে। রাজধানী কলম্বোর নিম্নাঞ্চলের বড় অংশ পানির নিচে, বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েক জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং দেশকে আরও শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়া:
শুধু সুমাত্রা দ্বীপে ৪৪২ জন মারা গেছেন এবং ৪০২ জন নিখোঁজ। দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছানো এখনো কঠিন, যেখানে হাজারো মানুষ খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া আটকা পড়েছেন। পাদাং শহরের আফ্রিয়ানতি (৪১) বলেন, “পানি হঠাৎ বাড়তে শুরু করলে আমরা পালাই। ফিরে এসে দেখি ঘর নেই, ব্যবসাও শেষ।”
থাইল্যান্ড:
গত এক দশকের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা ঘটেছে। মৃতের সংখ্যা ১৬২। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান শুরু করেছে। যারা পরিবার হারিয়েছেন, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অব্যবস্থাপনা ও দেরির কারণে দুই স্থানীয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মৌসুমি বর্ষণ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা ডেকে আনে। এ বছর ট্রপিক্যাল ঝড় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ বছরের মৃত্যু সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম