ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া চার মাসের শান্তির পর ফের সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের দুই দিনে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন কম্বোডিয়ার এবং ১ জন থাইল্যান্ডের নাগরিক।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে সীমান্ত এলাকায় থাই বাহিনীর গোলায় নিহত হয়েছেন দু’জন বেসামরিক। থাইল্যান্ডে নিহত ব্যক্তি ছিলেন সেনাবাহিনীর সদস্য। সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেছেন, থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সাধারণ বেসামরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
অপরদিকে, থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী জানিয়েছে, কম্বোডিয়ার সেনারা দেমটির উপকূলবর্তী ত্রাত প্রদেশের জলসীমায় উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। এছাড়া কম্বোডিয়া স্থল ও জল সীমান্তে ভারী অস্ত্র ও স্নাইপার মোতায়েন করছে এবং সীমান্তে পরিখা খনন করছে, যা থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংঘাতের মূল কারণ এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল বা পান্না ত্রিভুজ। ১১৮ বছর ধরে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয় দেশই এই ভূখণ্ড নিজেদের বলে দাবি করছে। ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই এলাকায় কম্বোডিয়ার আধিপত্য স্বীকৃত হয়েছিল, যা পরে থাইল্যান্ডের সঙ্গে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গত জুলাইয়ে সংঘাতে দুই দেশের ৪৮ জন নিহত হন এবং ৩ লাখ মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে যান। যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর চার মাস শান্তি বিরাজ করলেও রোববার পুনরায় সি সা কেত প্রদেশে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
থাই দৈনিক ব্যাঙ্কক পোস্ট জানিয়েছে, সংঘাতের শুরু হয়েছিল কম্বোডিয়ার ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের জেরে, যা সীমান্তে থাকা থাই ও চীনা নাগরিকদের আহত করেছে। এরপর কম্বোডীয় সেনারা লক্ষ্য করে গুলি চালালে থাইল্যান্ড বিমান অভিযান পরিচালনা করে এবং সংঘাত পূর্ণ মাত্রায় বিস্তৃত হয়।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম