মাগুরা প্রতিনিধি : 'মৌমাছি,মৌমাছি কোথা যাও নাচি নাচি দাঁড়াও না একবার ভাই। ওই ফুল ফোটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়াবার সময় তো নাই। কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের লেখা ' কাজের লোক 'এর প্রধান চরিত্রে ফুল থেকে মধু সংগ্রাহক মৌমাছির ব্যস্ততার যেন অন্ত নেই।
শীত মৌসুমের শুরুতে মাঠে মাঠে সরিষা ক্ষেত হলুদ ফুলে ভরে গেছে। মধু সংগ্রহে এই মুহুর্তে দল বেধে মাঠের পর মাঠ জুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে মধু সংগ্রহের জন্য। এমন দৃশ্য এখন মাগুরা'র শালিখা উপজেলার মাঠে মাঠে।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে মৌচাষীদের নানা কার্যক্রম। উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে চলতি মৌসুমে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে আসা সাতক্ষীরা সদর পলাশপোলের রবিউল ইসলাম জানান, মধু সংগ্রহের জন্য স্টীল ও কাঠ দিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি করা বাক্স যার উপরের অংশ কালো রঙের পলিথিন বা চট দিয়ে মোড়ানো হয়েছে।
এসকল বাক্সের ভিতরে কাঠের তৈরি ফ্রেমের সঙ্গে মোম দিয়ে বানানো বিশেষ কায়দায় লাগানো থাকে এক ধরনের সীট। পরবর্তীতে বাক্স গুলোকে সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি ভাবে রাখা হয়। বাক্সগুলির ভিতরে দেওয়া হয় রানী মৌমাছি, যাকে ঘিরে আনাগোনা করে হাজারো পুরুষ মৌমাছি। রানীর আকর্ষণে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা। একটি রানী মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন থেকে চার হাজার পুরুষ মৌমাছি থাকে এক একটি বাক্সে।
মৌচাষী রবিউল ইসলাম জানান, বাজারে সরিষা ফুলের মধুর চািহদা বেশি। দামও ভালো পাওয়া যায় ,তাই প্রতিবছর সরিষার মৌসুমে মধু সংগ্রহ করতে আসেন এখানে। প্রতি কেজি সরিষা ফুলের মধু ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান। তাই শীত মৌসুমে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের।
সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মৌচাষী ইসমাইল হোসেন জানান, কৃত্রিম উপায়ে মৌচাষ করে সপ্তাহে ১০ মন করে চার মাসে প্রায় ১৬০০ মন মধু সংগ্রহ করা হয়।
উপজেলা কৃষি বিভাগ মনে করছেন,কৃত্রিম উপায়ে মৌচাষ করে মধু বিক্রি করে বেকার ছেলেরা একদিকে যেমন অর্থ উপার্জন করছে, তেমনি সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে পরিপূরক ভুমিকা পালন করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আবুল হাসনাত জানান,মৌমাছি গুলো শরিষা ফুলের সংস্পর্শে আসলে তখন সরিষার পরাগায়ন ঘটে, এতে সরিষা ফলনের পরিমাণ ২০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তাই কৃত্রিম উপায়ের মৌচাষকে,সরিষার ফলন বৃদ্ধি ও অর্থ উপার্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বলে মনে করেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু