রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ চলছে এবং তা নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। দুই দেশই একে অপরকে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণের অভিযোগ করছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় থাইল্যান্ড জানিয়ে দিয়েছে, তারা পরিকল্পিত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সোমবার শুরু হওয়া সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। এতে জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতি আর টিকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তীব্র লড়াই ও বিমান হামলা
থাই সেনাবাহিনী জানায়, সীমান্তের একটি ক্যাসিনো কমপ্লেক্সকে কম্বোডিয়ার সেনারা অস্ত্র মজুত ও হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিল; সেখানে থাই ট্যাংক থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলাও চালানো হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী ‘কৌশলগত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিচালিত।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘আত্মরক্ষার্থে’ পাল্টা আক্রমণে বাধ্য হয়েছে। বেসামরিক আবাসিক এলাকায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ তুললেও থাইল্যান্ড তা অস্বীকার করেছে।
এখন থামা যাবে না: থাই প্রধানমন্ত্রী
থাই প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চার্নভিরাকুল বলেন, আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং সামরিক বাহিনী যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে। তার ভাষায়, এখন আমরা থামতে পারি না। সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।
দুই দেশই সীমান্ত এলাকা থেকে লক্ষাধিক মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। কম্বোডিয়া জানিয়েছে, সোমবার থেকে ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছে।
এটি জুলাইয়ের ভয়াবহ সংঘর্ষের পর সবচেয়ে বড় লড়াই, যখন পাঁচ দিনের গোলাগুলিতে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত ও তিন লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিল।
নতুন নতুন সীমান্তপয়েন্টে বিস্তার
মঙ্গলবার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায়—লাওস সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে থাইল্যান্ডের ট্রাট উপকূলীয় প্রদেশ পর্যন্ত। থাই নৌবাহিনী জানিয়েছে, সেখানে কম্বোডিয়ার অনুপ্রবেশকারী সৈন্যদের তাড়াতে অভিযান চলছে। কম্বোডিয়া ড্রোন, রকেট লঞ্চার ও কামান ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রভাবশালী সাবেক নেতা হুন সেন দাবি করেন, তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছে। কিন্তু ‘থাই আগ্রাসন’ ঠেকাতে পরে পাল্টা আঘাতে বাধ্য হয়েছে।
নাগরিকদের দুর্ভোগ
সীমান্তবর্তী কম্বোডিয়ান শহর সামরিয়াংয়ে বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। সরিয়ে নেওয়া মানুষের দীর্ঘ সারি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে।
থাইল্যান্ডের বুরি রাম প্রদেশে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের খেলতে ও মানুষকে খাবারের লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে। জুলাইয়ের সংঘর্ষে বাড়িছাড়া হওয়া লাওংদাও চুন্স্রি আবারও নবজাতক সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন।তার আকুতি আমি চাই, এটা শেষ হোক। এটাই যেন শেষ যুদ্ধ হয়।
থাইল্যান্ডের সামরিক সক্ষমতা কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি। থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, তাদের অভিযান কেবল ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে যাতে কম্বোডিয়ার যুদ্ধক্ষমতা কমিয়ে আনা যায়।
দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ শত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে। বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির ঘিরে দাবি-দাওয়ায় বরাবরই উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এর আগেও একাধিকবার গুরুতর সংঘর্ষ হয়েছে, যার মধ্যে ২০১১ সালের সপ্তাহব্যাপী গোলাগুলিও উল্লেখযোগ্য।- রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি