রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সময়ের কাঁটা যেন থেমে গেছে রাজশাহীর তানোরে। ১৭ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করা যায়নি গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে। পুরো এলাকার মানুষ দিশাহারা হয়ে অপেক্ষা করছে সেই একটিমাত্র খবরের স্বাধীনকে জীবিত পাওয়া যাবে তো?
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ভোর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শুরু করেছেন সুড়ঙ্গ খোঁড়ার অতিবিপদজনক ও জটিল কাজ, যা শিশুটির কাছে পৌঁছানোর একমাত্র উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে নলকূপের পাশে প্রায় ৩০ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে তলানিতে পৌঁছানো হয়, কিন্তু শিশুর কোনো অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের সরু গর্তে হঠাৎ করেই পড়ে যায় শিশু স্বাধীন। খবর পেয়ে দ্রুত এসে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। শুরু হয় সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। প্রথমে একটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি খোঁড়া শুরু হলেও পরে আরও দুটি স্কেভেটর যুক্ত করা হয়।
তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী সদর স্টেশনের তিনটি ইউনিট রাতভর মানবিক এই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যায়। মাটি খুঁড়া থামেনি এক মুহূর্তও। তারপরও বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা পর্যন্ত শিশুটিকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে সকাল হতে না হতেই ঘটনাস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। শত শত উৎসুক মানুষের ভিড়ে উদ্ধারকর্মীদের কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, আর তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভিড় নিয়ন্ত্রণে।
উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে ওঠে একাধিক বাধার কারণে। বুধবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ৩০ ফুট গর্তে ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান টের পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওপর থেকে খসে পড়া মাটি ও খড়ের স্তরে ক্যামেরার দৃশ্য পুরোপুরি ঝাপসা হয়ে যায়। তবুও আশার আলো ছিল—কারণ দুপুরের দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা গিয়েছিল।
কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, আর রাত পেরিয়ে সকাল সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও স্বাধীনকে এখনও দেখা যায়নি। তারপরও হতাশ নয় উদ্ধারদল। তাদের ভাষায়, “যতক্ষণ প্রয়োজন, ততক্ষণ আমরা থামবো না।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম বলেন, কাজ অব্যাহত আছে। গর্ত কাটার কাজ শেষ, এখন শিশুটির দিকে পৌঁছাতে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে।
পুরো এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রার্থনা ছোট্ট স্বাধীন যেন নিরাপদে ফিরে আসে মায়ের বুকে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম