শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের সখিপুর থানায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’এ আটক যুবলীগের এক নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় হাজির হন স্থানীয় বিএনপি নেতা। এসময় তিনি ওই যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে ওসির সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন তিনি। এতে স্থানীয় তিন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
আহত সাংবাদিকরা হলেন, এশিয়ান টেলিভিশনের রুহুল আমীন জুয়েল, কালবেলা’র ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি শাহিন আহমেদ ও দৈনিক নয়া-দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রাসেল শিকদার। ঘটনাটি শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সখিপুর থানায় ঘটেছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদার শরীয়তপুরের সখিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগেও তার বিরুদ্ধে আটক একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় তদবির বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে সারা দেশে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী যুবলীগের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন মাসুদকে আটক করে সখিপুর থানা পুলিশ। থানায় থাকাকালে তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম সরদার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে থানায় আসেন। আটক যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করেন বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম। এনিয়ে থানার ভেতরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ছবি তুলতে গেলে বিএনপি নেতার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। হামলায় তিন সাংবাদিক আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
আহত সাংবাদিক রাসেল শিকদার বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আসে আটক যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় এসে বিএনপি নেতারা হট্টগোল করছে। খবর পেয়ে আমি ও আরো দুজন সহকর্মী থানায় গিয়ে বিষয়টি ওসি সাহেবের কাছে জানার চেষ্টা করি। পরে তথ্য সংগ্রহ করে আমি থানা থেকে বের হয়ে থানা ফটকের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এসময় হঠাৎ করেই মাজহারুল ইসলাম সরদারসহ কয়েকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসে। মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে। এসময় তিনি বলেন আমাদের জন্য তিনি ওই যুবলীগ নেতাকে ছাড়াতে পারেন নি। সাংবাদিকদের জন্য আমরা থানায় কাজ করতে পারি না। থানার মতো একটি জায়গায় সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা খুবই ভয়ংকর ও লজ্জাজনক।
আহত অপর সাংবাদিক রুহুল আমীন জুয়েল বলেন, ‘আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম। কিন্তু ছবি তুলতেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে আমি গুরুতর আহত হই। থানার ভেতরে নিরাপত্তা না থাকলে আমরা কোথায় নিরাপদ থাকব?
জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আওয়ামী লীগের দোসরদের পক্ষে বিএনপির কেউ থানায় গিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই। আমি খোঁজ খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিবো।
এবিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিম উদ্দীন বলেন, এক যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর তাকে ছাড়াতে এসেছিলেন বিএনপি নেতা মাজহারুল ইসলাম। আমি তাকে বলেছি তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া ছাড়তে পারবো না। এসময় তিন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিবো।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক মহল। সাংবাদিক নেতারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব