বাগেরহাট প্রতিনিধি: বড়দিনসহ টানা কয়েক দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ভ্রমণপিপাসুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন উপভোগ করতে বাগেরহাটে ভিড় জমাচ্ছেন।
সুন্দরবনের কটকা, করমজল ও হারবাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্রে ছিল দর্শনার্থীদের ব্যস্ততা। শান্ত পরিবেশে হরিণ, বানর, কুমিরসহ নানা বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি নদী ও বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন তারা। একই সঙ্গে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান (রহ.)-এর মাজার ও আশপাশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শীত উপেক্ষা করে ছুটির দিনে হাজারো মানুষ ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শনে আসেন। শনিবার অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাড়তি তৎপরতা চালাতে দেখা যায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবার ও বন্ধুদের দল প্রাচীন এই স্থাপনা ঘুরে দেখেন।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় যোগাযোগ সহজ হওয়ায় দিনভিত্তিক ভ্রমণও বেড়েছে। অনেক দর্শনার্থী প্রথমবারের মতো ষাটগম্বুজ মসজিদে এসে নামাজ আদায় করে মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছেন বলে জানান।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) একদিনেই মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৮টি জাহাজে করে দুই হাজারের বেশি পর্যটক কটকা কেন্দ্রে ভ্রমণ করেছেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, ২৫ ডিসেম্বর ১৮টি ট্যুর পারমিশনের বিপরীতে ৬১১ জন দেশি ও ১৩ জন বিদেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতি নেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, টানা তিন দিনের ছুটিতে প্রায় ১০ হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করেছেন, যা আগের সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।