আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইওয়ান ঘিরে সোমবার বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। চীনের পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে, আকাশ, নৌ ও রকেট বাহিনী একযোগে অংশ নিয়ে এই মহড়ায় যুদ্ধ প্রস্তুতি, যৌথ অভিযান সক্ষমতা এবং আক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জাস্ট মিশন ২০২৫’ নামের এই মহড়া মঙ্গলবারও চলবে। এতে তাইওয়ানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো অবরোধ, দ্বীপটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা এবং স্থল ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ডের মুখপাত্র শি ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, এই মহড়ার লক্ষ্য হচ্ছে সমুদ্র ও আকাশপথে যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল, সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও এলাকা সিল করা এবং বহুমাত্রিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শন। তিনি বলেন, এটি তাইওয়ান স্বাধীনতাকামী শক্তি ও বাইরের হস্তক্ষেপকারীদের জন্য একটি “গুরুতর সতর্কবার্তা।
চীনের এই সামরিক তৎপরতার জবাবে তাইওয়ান সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপটির আশপাশে দুটি চীনা সামরিক বিমান ও ১১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া মহড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্সিয়াল অফিস এক বিবৃতিতে এই মহড়ার নিন্দা জানিয়ে চীনকে পরিস্থিতি ভুলভাবে মূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়েছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট না করার অনুরোধ করেছে।
তাইওয়ানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার চীন তাইপের আকাশসীমায় ১০ ঘণ্টার জন্য একটি “অস্থায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা” ঘোষণা করেছে, যেখানে লাইভ-ফায়ার মহড়া চালানো হবে। বিকল্প আকাশপথ নির্ধারণে কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেসের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর এটি চীনের ষষ্ঠ বড় সামরিক মহড়া। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া একে “চীনের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও বৈধ পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চীনের এই মহড়া এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যা দ্বীপটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্রচুক্তি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্য চীন হামলা চালালে জাপানও জড়াতে পারে এই উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে তাইওয়ান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং বলছে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের।
আল-জাজিরা/রিপোর্টার্স২৪/এসসি