রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও বার্ষিক আয় মিলিয়ে মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা ৭৩ পয়সা। তবে হলফনামায় একটি প্রাইভেটকার ও ৩০ ভরি সোনার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তার বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
আইনি তথ্যের অংশে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০টি মামলা হয়েছিল। এসব মামলার বেশিরভাগই আদালতের আদেশে স্থগিত, প্রত্যাহার বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে এসব মামলার কোনোটি তার সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত বাধা নয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হলফনামায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মির্জা ফখরুলের নামে মোট পাঁচ একর কৃষি জমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৭০ শতাংশ ও ২.১৪ একর জমি, যার মূল্য ৫১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। পৈতৃক সূত্রে দোতলা বাড়ির অংশের মূল্য ১০ লাখ টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামী-স্ত্রীর নামে ১২ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ৩৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা। ঢাকার পূর্বাচলে নিজ মালিকানায় পাঁচ কাঠা জমি আছে, যার মূল্য আনুমানিক ৮৫ লাখ ৪ হাজার টাকা।
ভবন ও আবাসিক সম্পদের মধ্যে ঢাকায় অবস্থিত ১৯৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চার শতাংশ জমি যার মূল্য পাঁচ লাখ টাকা।
মির্জা ফখরুলের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব রয়েছে। উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের ঠাকুরগাঁও শাখায় পাঁচ হাজার ২ টাকা, পূবালী ব্যাংক ঠাকুরগাঁও শাখায় এক লাখ ৯ হাজার ৮০৪ টাকা ৫০ পয়সা, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ঢাকা শাখায় দুই লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৭ টাকা ৪৭ পয়সা। এছাড়া পূবালী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রীর নামে জমা রয়েছে প্রায় দুই লাখ ২৪ হাজার ১৩২ টাকা। এক্সিম ব্যাংকের গুলশান শাখায় ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬৭ টাকা এবং সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে তিন হাজার ৪৮৫ টাকা। মোট হিসাব মিলিয়ে বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা। স্ত্রীর নগদ রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩০ টাকা। বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে তিনি ‘দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর এক হাজার ৪২৮টি শেয়ারের মালিক, যার মূল্য ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা। স্ত্রীর নামে বিভিন্ন মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে রয়েছে ৪৫ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১০ ভরি সোনা, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী যেমন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার (মূল্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা) এবং আসবাবপত্র (মূল্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা)।
বার্ষিক আয় হিসাবে কৃষিখাত থেকে আয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা, ব্যবসা (হুরমত আলী মার্কেটের শেয়ার থেকে) এক লাখ ৯৭ হাজার ২৩২ টাকা, ইজাব গ্রুপে পরামর্শক হিসেবে সম্মানী ছয় লাখ, ‘দি মির্জাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এ চাকরি থেকে সম্মানী এক লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য উৎস ও ব্যাংক মুনাফা সাত হাজার ৯০১ টাকা। মোট বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম