রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে গভীর উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকা সত্ত্বেও সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এখনও করা হয়নি। এই সম্পদকে কাজে লাগাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও নীতিগত সমর্থন অত্যন্ত জরুরি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গবেষণা পরিচালনা করেছে জাহাজ আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন, যেখানে আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব ধরা পড়লেও সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যার অতিরিক্ত বৃদ্ধি ইমব্যালেন্সের লক্ষণ। এটি মূলত ওভারফিশিংয়ের কারণে হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা আশঙ্কাজনক। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় মাছের সংখ্যা কমছে এবং স্বল্প গভীরতাতেও মাছের ঘনত্ব হ্রাস পাচ্ছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২৭০–২৮০টি বড় ট্রলার সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ করলেও তার মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এভাবে মাছ আহরণ অব্যাহত থাকলে বঙ্গোপসাগরে মাছের অভাব দেখা দিতে পারে। সোনার ফিশিং নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে বৈজ্ঞানিকরা আশার আলোও দেখিয়েছেন। টুনা মাছের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ‘ফিশিং নার্সারি’র অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয় এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম