রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দূষিত বাতাসের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও জনস্বাস্থ্য এখন বড় ঝুঁকির মুখে। বিশ্বের বিভিন্ন মহানগরীতে বায়ুর মান দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যেখানে শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতের কলকাতা। একই সঙ্গে বায়ুদূষণের দীর্ঘস্থায়ী চাপে থাকা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও আবার নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ঢাকার বায়ুমান সূচক (AQI) রেকর্ড করা হয় ১৪২। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৯তম। এই মাত্রার বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
একই সময়ের পরিসংখ্যানে ২৭৩ একিউআই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে ভারতের কলকাতা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা, যেখানে বায়ুমান সূচক ২৩০। পাকিস্তানের লাহোর ২১৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয়, ভারতের দিল্লি ১৮৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ইরানের রাজধানী তেহরান ১৭২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বাতাসকে ভালো হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি মানের বাতাস নির্দেশ করে। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে সেটিকে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০–এর মধ্যে থাকলে বাতাস সরাসরি অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পড়ে।
এদিকে একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে পরিস্থিতি ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে শিশু, প্রবীণ ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্কোর যদি ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায় ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পবর্জ্য, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। ঢাকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে শীত মৌসুমে বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পরিবেশবান্ধব নীতি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম