| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যশোরে ঘুসের টাকাসহ আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৮, ২০২৬ ইং | ১৪:৪৬:০২:অপরাহ্ন  |  67943 বার পঠিত
যশোরে ঘুসের টাকাসহ আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কারাগারে

যশোর প্রতিনিধি: ঘুস লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উদ্ধার করা ঘুষের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. এম. মোর্শেদ এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উদ্ধারকৃত এক লাখ ২০ হাজার টাকা ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পক্ষে মামলার আইনজীবী (পিপি) সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে বুধবার দুপুরে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘুষের নগদ টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে দুদক। যশোর দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে আগে থেকেই ফাঁদ পাতা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই ফাঁদেই তিনি ধরা পড়েন।

দুদক সূত্র জানায়, বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবীর প্রয়াত স্ত্রী শিরিনা আক্তারের পেনশন সংক্রান্ত ফাইল ছাড় করানোর নাম করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষক নুরুন্নবীকে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে পেনশনের ফাইল নিষ্পত্তির জন্য দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

দুদকের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে বাকি এক লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণের সময়ই তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এদিকে এই আটকের প্রতিবাদে যশোরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক যশোর দুদক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দাবি করেন, দুদকের অভিযানের কিছুক্ষণ আগে আশরাফুল আলম বাথরুমে গেলে সেই সুযোগে একটি পক্ষ তার টেবিলে টাকা রেখে যায়। পরে সেটিকে ‘হাতেনাতে আটক’ হিসেবে দেখিয়ে একটি নাটক সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষকরা আশরাফুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। শুধু দুদক কার্যালয়ই নয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার পর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

তবে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ, প্রমাণ ও ফাঁদ—সবকিছু আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনায় জেলার শিক্ষা অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন ও দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪