আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের কর্তৃপক্ষ শনিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তারা দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি-বিরোধী বিক্ষোভের ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। রেভোলিউশনারি গার্ডস (ইরানির বিশিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী) বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের ব্যবস্থাকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরান এখন স্বাধীনতার দিকে তাকাচ্ছে, হয়তো আগে কখনো যেমন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!’
বিক্ষোভ এবং সহিংসতার খবর
ইরানের বিভিন্ন শহরে নতুন সহিংসতার খবর পাওয়া গেলেও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে পুরো পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন। শনিবার রাতের পর তেহরানসহ রাশত, তাবরিজ, শিরাজ ও কেরমান শহরে নতুন বিক্ষোভের ভিডিও প্রকাশিত হয়। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিওগুলো যাচাই করতে পারেনি।
ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত ছেলে রেজা পেহলাভি বিক্ষোভকে আরও বড় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইসলামিক রিপাবলিককে উৎখাত করার পরিকল্পনা করছেন।
রাষ্ট্রের বিবৃতি ও মৃত্যুর ঘটনা
রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কেজারের পশ্চিমে করাজ শহরে একটি পৌর ভবন আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানায় এবং ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করে। একই সঙ্গে শিরাজ, কুম ও হামেদান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত সদস্যদের অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।
এক ভিডিওতে তেহরানের সাদাতাবাদ এলাকায় রাতের বিক্ষোভে একজন প্রতিবাদকারী চিৎকার করছেন, "জনতা আসছে। 'ডিকটেটরের মৃত্যু হোক', 'খামেনির মৃত্যু হোক'"।
বিক্ষোভগুলো ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতিবাদে। দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়, যেখানে বিক্ষোভকারীরা খোদাই করা ইসলামিক শাসন শেষ করতে দাবি করছেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করছে।
নিহত ও গ্রেপ্তার
ইরানীয় মানবাধিকার গ্রুপ HRANA জানিয়েছে, অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী ও ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন, এবং প্রায় ২,৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও রেভোলিউশনারি গার্ডসের প্রতিক্রিয়া
ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেছে, "সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করছে। কিছু নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন, এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে।"IRGC জানিয়েছে, ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের "লালরেখা"।
নিয়মিত সেনাবাহিনীও ঘোষণা দিয়েছে যে তারা দেশের কৌশলগত অবকাঠামো ও জনগণের সম্পত্তি রক্ষা করবে।
পেহলাভির আহ্বান
যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেহলাভি ভিডিও বার্তায় বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু সড়কে থাকা নয়, শহরের কেন্দ্র দখল ও নিয়ন্ত্রণ করা।" তিনি শিগগিরই ইরানে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সহিংসতার প্রভাব
উত্তর-পশ্চিম ইরানের হাসপাতালগুলোতে আহত বিক্ষোভকারীরা ভর্তি হচ্ছেন। অনেকের মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর চোট, গভীর কেটে যাওয়া ও গুলি লাগার ঘটনা ঘটেছে। একটি হাসপাতালে অন্তত ২০ জনকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫ জন পরবর্তীতে মারা যান।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের শাসকদের সতর্ক করে বলেন, "আপনারা গুলি শুরু করলে আমরাও গুলি শুরু করব।" পেহলাভিকে সমর্থনকারী কিছু বিক্ষোভকারী "শাহজীবন" স্লোগান দিচ্ছেন, যদিও বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীর চিৎকার ইসলামিক শাসনের অবসান এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে।
খামেনির মন্তব্য
সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের বিদেশি, বিশেষ করে ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করা “ভাড়াটে” বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, তেহরান জনগণকে আইন অমান্য করতে দেবেন না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি