রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই চলছে। কোনো ভুল এড়াতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব নয়।
সোমবার (তারিখ) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির সম্ভাব্য প্রভাব, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও কার্যকারিতা নিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে যাচাই-বাছাই করছে। এই কারণে কাজ শুরুর সিদ্ধান্তে কিছুটা সময় নেওয়া হচ্ছে।
গতকাল তিস্তা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে যান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম তিস্তা নদীর গতি-প্রকৃতি ও সংকট সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত অবহিত করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, তিস্তা প্রকল্প একটি বড় উদ্যোগ এবং এটি বাস্তবায়নে চীন নীতিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত সরকার প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশ ও চীন উভয়ই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রকল্পটি জটিল হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ ও সেচ কার্যক্রম—এই তিনটি বিষয়েই বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই কারণে চীন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আরও কিছু সময় নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি নিয়ে গণশুনানি ও জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করে তা চীনে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ চলছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং নদী ভাগাভাগি সংক্রান্ত সহযোগিতাও রয়েছে। তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা নির্ধারণ করা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এগুলো রাজনৈতিক ইস্যু। নির্বাচিত সরকার যাতে অপেক্ষা না করতে হয়, সেই প্রস্তুতি আমরা গঙ্গা ও তিস্তা—উভয় ক্ষেত্রেই করে দিয়েছি।
উল্লেখ্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনার অধীনে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১১০ কিলোমিটার নদীতে মোট ১,৩৩০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে। তীর রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও মেরামত, নদীর দুই ধারে সড়ক নির্মাণ এবং ১৭০.৮৭ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।