ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ও ছাত্রদল নেতা এএসএম সাইদ সোহাগ নিখোঁজের সাড়ে ছয় বছর পার হলেও আজও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর গ্রামের এই তরুণ চিকিৎসককে হত্যার পর গুম করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
সন্তান হারানোর শোকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সোহাগের মা মনোয়ারা বেগম। ছেলের ফেরার আশায় দিন গুনতে গুনতে তিনি এখনো পথ চেয়ে বসে আছেন। এ শোক সইতে না পেরে সোহাগের বাবা মসিউর রহমান গত বছরের ১৩ জুলাই (২০২৫) মৃত্যুবরণ করেন।
সোহাগের বড় ভাই শামিম সরোয়ার ভুটার জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে সোহাগ বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিজিটি কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন। তিনি হাসপাতালের ছাত্রাবাসের ১০৫ নম্বর কক্ষে থাকতেন।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২৩ জুন রাতে বাবার কাছে ফোন আসে ‘সোহাগ গুরুতর অসুস্থ। ফোনে কথা বলার সময় তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। ওই রাতের পর থেকেই সে নিখোঁজ।’ এরপর বরিশালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সোহাগের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সোহাগের চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম লিংকন জানান, নিখোঁজের তিন দিন পর ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–১৩১০) করা হয়। প্রায় ছয় বছর সাত মাস পার হলেও নিখোঁজ সোহাগের কোনো খোঁজ মেলেনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সে সময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সাহাবুদ্দিন পরিবারকে জানিয়েছিলেন, পুলিশ সোহাগকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রুমে থাকায় অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ, সোহাগ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকায় তিনি রাজনৈতিকভাবে টার্গেটে পরিণত হন। ২০১৫ সালে তাকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে যায় এবং পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন স্বজনরা। এছাড়া ছাত্রলীগের দায়ের করা মামলায় আসামি হওয়া এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে তাকে গুম করা হতে পারে বলে পরিবারের ধারণা।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান সাজু বুধবার জানান, ছাত্রদল নেতা সোহাগের নিখোঁজের বিষয়টি আমাদের থানার রেকর্ডে নেই। ঘটনাটি অনেক আগের হওয়ায় খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
রিপোটার্স ২৪/এসসি