কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত তিনটি এক্সকাভেটর (বেকু), সাতটি ড্রাম ট্রাক ও দুটি ট্রলি জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কাপাসিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) কাপাসিয়া উপজেলার তিনটি পৃথক এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমির মাটি গভীরভাবে কাটার কাজে ব্যবহৃত ভারী যানবাহন ও যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের জব্দকরা সরঞ্জামসহ কাপাসিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা সংরক্ষণ আইন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন–২০২৩ এর ১৩/১৬ ধারা এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৯ ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ভিটিপাড়ার বাধন রায় (৩০), কাপাসিয়ার মোস্তফা (৫২) ও শাহরিয়ার (৩০), বড়ছিট এলাকার ওমর ফারুক (৩২), গাওরার মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৪৮), মো. নাসির উদ্দিন (৩২), রাকিব ভূঁইয়া (২৭), মো. আমজাদ (২৪), রফিকুল ইসলাম (২৭), মোকলেছ মিয়া (৩০), মো. বিল্লাল হোসেন (২৮), মাজিদুল (২৫), আব্দুল আজিজ (৩০), মো. মোতালিব (৩০), রিফাত (২০), মো. নাহিদ ইসলাম (২২), রনি (২৮), নাঈম (২৩), মো. নাঈম (২৫), সোহাগ (২২) ও শামীম (২৬)। তাদের মধ্যে স্থানীয় ইটভাটা মালিক, শ্রমিক ও যানবাহনের চালক রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাটি কাটার ফলে এলাকার কৃষিজমি, গ্রামীণ জনপদ ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। পাশাপাশি মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিনুর আলম বলেন, মাটি কাটায় ব্যবহৃত জব্দকৃত সরঞ্জাম থানার হেফাজতে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
রিপোটার্স ২৪/এসসি