| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লক্ষ্মীপুরে সন্তানের পিতৃপরিচয় নির্ধারণে ৫ বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর মরদেহ উত্তোলন

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২১, ২০২৬ ইং | ২২:৩০:২৭:অপরাহ্ন  |  ৮৮৭০৭৭ বার পঠিত
লক্ষ্মীপুরে সন্তানের পিতৃপরিচয় নির্ধারণে ৫ বছর পর কবর থেকে প্রবাসীর মরদেহ উত্তোলন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: উচ্চ আদালতের আদেশে লক্ষ্মীপুরে এক শিশু কন্যার পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে দাফনের প্রায় পাঁচ বছর পর কবর থেকে কুয়েতপ্রবাসী আবদুল মান্নানের মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার কমলা শীষ রায়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

নিহত আবদুল মান্নান (সোহেল) দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি পেশায় কুয়েতপ্রবাসী ব্যবসায়ী ছিলেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাস জীবনে আবদুল মান্নান বিপুল সম্পদের মালিক হন। বিবাহের আগেই তিনি হার্নিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অস্ত্রোপচারের কারণে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়ে পড়েন বলে পরিবার দাবি করে। ২০০৮ সালের ১ মে তিনি লাহারকান্দি ইউনিয়নের রুহুল আমিনের মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন সুইটিকে বিয়ে করেন।

বিয়ের পর প্রায় ১৩ বছর দাম্পত্য জীবন কাটালেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। একাধিকবার চিকিৎসা গ্রহণ করেও তারা ব্যর্থ হন। মৃত্যুর কয়েক বছর আগে আবদুল মান্নান বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন এবং খাদ্যনালীর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই বছর ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফেরেন।

২০২১ সালের ১ জুন ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আবদুল মান্নানের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন সুইটি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এ নিয়ে পরিবারে বিরোধের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর আগে আবদুল মান্নান আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীকে জানিয়ে গিয়েছিলেন যে শিশুটি তার সন্তান নয়।

পরবর্তীতে আবদুল মান্নানের মৃত্যুর পর স্ত্রী ওয়ারিশ দাবি করে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করলে তার মা কাজল রেখা, ভাই শওকত, রাজু ও বোন রুমা আক্তার লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ (১ম আদালত)-এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন সুইটি ও কন্যা আয়েশা মনি (নাবালিকা) বিবাদী হন।

দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত বাদীদের পক্ষে রায় দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ হাইকোর্টে আপিল করলে আদালত কন্যা আয়েশা মনির পিতৃপরিচয় নির্ধারণে আবদুল মান্নানের মরদেহ উত্তোলন করে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদ বলেন,বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কবর থেকে আবদুল মান্নানের মরদেহ উত্তোলন করে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা ঢাকার নির্ধারিত ল্যাবে পাঠানো হবে।”

রিপোটার্স ২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪