চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের অবস্থার নাজুক চিত্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের উদাসীনতা ও পরিচালনাগত ত্রুটির কারণে হলটি এখন নানা সমস্যার মধ্যে দুলছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল প্রাঙ্গণের গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে অবাধে, যার ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে, আর গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদ ও তাপ পরিবেশ আরও কষ্টকর করে তুলবে। দেয়ালের পলিস্টার ঝরে পড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। সম্প্রতি ভূমিকম্পের ফলে হলের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মেরামতের কোনো পদক্ষেপ এখনও হয়নি। রুমের লকার ও জানালা ভাঙা, পানির ফিল্টার পর্যাপ্ত নয়, ফিল্টারের সীমিত ক্ষমতার কারণে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই পানির সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে পানিতে আয়রনের মাত্রা একটি বড় সমস্যা।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেছেন, মশার উপদ্রব, অপর্যাপ্ত বাথরুম সরঞ্জাম এবং অপরিষ্কার বাথরুমের কারণে দিনমজুরি কষ্টের মুখে পড়তে হচ্ছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা বলছেন, মিল সিস্টেমে বৈষম্য করা হচ্ছে। এর আগেও, প্রভোস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসানের উদাসীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা হল অফিসে তাঁকে অবরুদ্ধ করেছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি ও প্রয়োজনীয় কাজের অনুপস্থিতির কারণে আমরা আন্দোলন করেছি। তাতেও কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। প্রভোস্ট প্রায়ই হলে থাকেন না এবং যে-কোনো বিষয়ে গেলে বলেন বাজেট নেই, বাজেট এলে দেখা যাবে। আমরা আরও দায়িত্বশীল ও নীতিবান প্রভোস্ট চাই।
শাহ আমানত হল সংসদের জিএস আবিদ বলেন, হল সংসদ নির্বাচনের পর প্রভোস্টের উদাসীনতার কারণে আমরা আন্দোলন করেছি। ভিসি ও প্রো-ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ১৫টি দাবি দিয়েছিলাম, যার মধ্যে ক্যান্টিন ও সাইকেল স্ট্যান্ড চালু হয়েছে। বাকি কাজের জন্য আমরা চাপ দিচ্ছি, কিন্তু প্রভোস্ট কাজের ক্ষেত্রে উদাসীন। কোনো উদ্যোগের কথাই বললেই বাজেটের অজুহাত দেন।
গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রভোস্টকে ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ত থাকার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম