বাউফল প্রতিনিধি : বাউফলে রাতের আঁধারে অগ্নিকান্ডে ১০টি দোকান পুড়ে প্রায়১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়িকরা।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর হিজবুল্লাহ্ বাজারে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, ওই দিন রাত ৯ টার দিকে দোকান বন্ধ করে আমি বাড়িতে গিয়ে প্রতিদিনের মতো খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যাই।ঠিক রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে বাজারে থেকে মানুষের হইচই ডাক- চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে দৌড়ে বাজারে গিয়ে দেখি আগুনে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সব পুড়ে একাকার হয়ে গেছে।এলাকাবাসী আগুন নিভানোর চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন দেওয়া হয়।কিন্তু ততক্ষণে সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী মোশাররফ খান বলেন, ১০টি দোকানের মধ্যে আমার দুটো। একটিতে ছিল বিকাশ,নগদ টাকা, মনোহারি, জুতা সহ ভ্যারাইটিজ আইটেম এবং অন্যটিতে ছিল মোদি- মনহরী সহ অন্যান্য মালামাল। এতে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমার। আশা,ব্র্যাক ও উদ্দীপনা থেকে আমি লোন নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছি, এখন আমি পথে বসে গেছি আমার আর কোন উপায় নেই। আমি কিভাবে কিস্তি চালাবো, সংসার চালাবো।
অন্য এক ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম খান বলেন,আমি এই বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মুদি, মনোহারি ও চায়ের দোকান করে আসছি।আমার দোকানে প্রায় ৩-৪ লাখ টাকার মালামাল রাখা ছিল। 'এক টাহার মালামাল রক্ষা করতে পারি নাই আমার ভিক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই'।
এছাড়াও ব্যবসায়িক মোঃ ইমন আকনের ছিল চাউলের গোডাউন, ব্যবসায়িক সাহেব আলী ফকিরের কৃষি যন্ত্রপাতি দোকান সহ বাজরে বিএনপির ৯নং ওয়ার্ড কার্যালয়টিও অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মার্কেটের মালিক মনসুর আহমেদ (অবসরপ্রাপ্ত) সহকারী অধ্যাপক কান্না কন্ঠে জানান',আমি পেনশনের টাকায় মার্কেটটি করেছি।শেষ বয়সে এটা নিয়ে জীবন কাটাবো। কিন্তু আমার সমস্ত কিছু শেষ হয়ে গেলো।আমি নিরুপায় হয়ে গেছি'।
এ ঘটনায় বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালেহ আহমেদ জানান, ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং সরকারি ভাবে নগদ অর্থ সহায়তা ও ঢেউটিন সহ অনন্য যা আছে ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন